ইলাস্ট্রেটর দিয়ে রোল আপ ব্যানার তৈরী করে ফেলুন খুব সহজেই!

Blog

ইলাস্ট্রেটর দিয়ে রোল আপ ব্যানার তৈরী করে ফেলুন খুব সহজেই!

কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রচারনা চালানোর জন্য ব্যানার একটি অতি প্রয়োজনীয় বস্তু। আমরা আলোচনা করবো রোল আপ ব্যানার নিয়ে। আসলে রোল আপ ব্যানারকে পপ আপ ব্যানারও বলা হয়। আসলে ব্যানার কোনো প্রদর্শনী বা কোনো ব্যবসায়ীর মার্কেটিং টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

রোল আপ ব্যানার তৈরী করার সময় কিছু কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় মাথায় রাখতে হবে। এই রোল আপ ব্যানার ব্যবসায় সম্পর্কে সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভাগ করে নেওয়ার পর তৈরী করা হয় বা ডিজাইন করা হয়। মূলত এই রোল আপ ব্যানার লিফলেট, ব্রোশার ইত্যাদি হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। রোল আপ ব্যানার তৈরী করার সময় এমনভাবে ডিজাইন করতে হবে যেনো ব্যানারটির লে-আউটটি অনেক ক্রিয়েটিভ ও দেখতে আকর্ষণীয় হয়।

একটি রোল আপ ব্যানারের পুনঃব্যবহার একটি প্রতিষ্ঠানকে অনেক খারাপ অবস্থায় ফেলতে পারে। সে জন্য আপনাকে এমনভাবে ব্যানারটি ডিজাইন করতে হবে যেনো কেউ বলে না পারে যে এই ব্যানারটি অন্য কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে।

একটি রোল আপ ব্যানার ডিজাইন করা একটি পোস্টার ডিজাইন করার মতোই। ব্যানারটি যে প্রতিষ্ঠানের জন্য বানানো হচ্ছে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সর্বপ্রকার আইটেমের সাথে মিল রেখে তৈরী করা উচিত। রোল আপ ব্যানার তৈরীর ক্ষেত্রে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবে যেনো ব্যানারটি কাছে থেকে বা অনেক দূরে থেকেও আকর্ষণীয় দেখা যায়।

ব্যানারের মাপঃ আসলে একটি নির্দিষ্ট মাপের ওপর বিবেচনা করে বোঝা যায় রোল আপ ব্যানার সাধারণত দীর্ঘ এবং পাতলা আকারের হয়। সধারনত স্ট্যান্ডার্ড ডিজাইন অনুযায়ি ডিজাইনের লেআউট তিনটি নিয়ম অনুসারে তৈরী করা হয়। এগুলো হলো- কোন কারনে ব্যানারটি তৈরী হচ্ছে, পণ্যের বিষয়বস্তু ও যোগাযোগের ঠিকানা।

এখন কথা বলি কিভাবে আপনি একটি ভালো মানের রোল আপ ব্যানার তৈরী করবেন? রোল আপ ব্যানার ব্যানার ডিজাইন নিয়ে আমার কিছু কথা আছে। আসলে আমরাতো অনেকেই এই ডিজাইনটা করতে পারবোনা। আমাদের যাদের ডিজাইন সম্পর্কে ভালো রকমের ধারণা আছে তারাই শুধু এরকম ক্রিয়েটিভ ডিজাইনগুলো করতে পারবো। সেজন্য আমাদের কোনো কিছু ডিজাইন করার আগে ডিজাইন শুরু করার আগে ভাবতে হবে যে, আমি কাজটি সঠিকভাবে করতে পারবো কিনা? তার পাশাপাশি কম্পিউটার চালনায় পারদর্শী হতে হবে।

তো চলুন ডিজাইনে নামা যাক- প্রথমে আপনি আপনার কম্পিউটারে এডোবি ইলাস্ট্রেটর অ্যাপলিকেশনটি ওপেন করুন। ওপেন হওয়ার পরে নিচের মতো একটা উইন্ডো সেল হবে। এখন আপনি নিম্নে চিহ্নিত মেনু বার থেকে File-এ ক্লিক করুন(আমার অ্যাপলিকেশনটি Adobe Illustrator CS6 )।

 

File-এ ক্লিক পরে নিম্নরূপ একটি ছোট বাক্স আসবে যেখানে আপনি আপনার নির্বাচিত ব্যানারের মাত্রাগুলি ইনপুট করতে পারেন।

 

 

মাত্রাগুলো ঠিকঠাক মতো বসিয়ে নিয়ে OK বাটনে ক্লিক করুন। OK বাটনে ক্লিক করার পরে নিচের ন্যায় একটি আর্টবোর্ড আসবে।

 

 

এখানে আপনি ইলাস্ট্রেটরের টুলস গুলো দিয়ে আপনার প্রয়োজনানুসারে ডিজাইন করে নিন।(নিচে ইলাস্ট্রেটরের টুলস গুলোর নাম দিয়ে দেওয়া হয়েছে)

 

 

একটি সম্পূর্ণ ডিজাইন এইরূপ হবে।(নিম্নে প্রদর্শন করা হয়েছে)

 

 

যেহেতু আপনার ডিজাইন শেষ তাহলে এখন অবশ্যই আপনাকে ফাইলটি সেভ করতে হবে।

 

এখন আমি আপনাদের ফাইল সেভ করা নিয়ে কিছু কথা জানাবো। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক কথা গুলো।

যেহেতু আপনার ডিজাইন শেষ তাহলে এখন অবশ্যই আপনাকে ফাইলটি সেভ করতে হবে।

এখন আমি আপনাদের ফাইল সেভ করা নিয়ে কিছু কথা জানাবো। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক কথা গুলো।

আপনি যখন আপনার ডিজাইন শেষ করবেন এবং ডিজাইনটি সেভ করবেন তখন ডিজাইনটি কি মোডে সেভ করে রাখবেন? আপনি অবশ্যই Ai মোডে সেভ করে রাখবেন। যেনো পরে কোনো সমস্যা হলে খুব সহজেই ডিজাইনে পরিবর্তন আওন্তে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে File-এ ক্লিক করে Save As-এ ক্লিক করতে হবে। অথবা Shift+Ctrl+S প্রেস করতে হবে। তারপরে কম্পিউটার স্ক্রিনে একটি লেআউট শো হবে ঠিক নিম্নের মতো। 

 

 

এখান থেকে আপনি আপনার ডিজাইনের নাম দিতে পারবেন এবং ফাইলটি কোথায় সেভ করবেন সেটা সিলেক্ট করতে পারবেন। উক্ত ইনপুটগুলো দেওয়ার পরে আপনাকে Save বাটনে ক্লিক করতে হবে। Save বাটনে ক্লিক করার পরে আপনার সামনে নিম্নরূপ আর একটি উইন্ডো ওপেন হবে।

 

 

এখানে আপনি ইলাস্ট্রেটরের কিছু পুরাতন ভার্সন সহ আরো কিছু অপশন পেয়ে যাবেন। আপনার প্রয়োজন মতো অপশন গুলো ঠিক করে নিয়ে OK আইকনটিতে ক্লিক করুন। ক্লিক করার পরে আপনার ফাইলটি আপনার সিলেক্টকৃত অবস্থানে সেভ হয়ে যাবে।

এখন আসি ইমেজ ফরমেটে সেভ করার সব চেয়ে কঠিন একটি বিষয় নিয়ে। আসলে এই বিষয় সম্পর্কে কিছু কিছু মানুষ এখনো অজ্ঞ। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক। আপনার ডিজাইনটি আপনি যদি ইমেজ মোডে সেভ করতে চান তাহলে আপনাকে মেনু বার থেকে File-এ ক্লিক করতে হবে এখন আপনি নিচের মতো একটি উইন্ডোর সম্মুখীন হবেন।

 

 

এখানে আপনি ছবিতে চিহ্নিত Export অপশনে ক্লিক করুন। এখন আপনার সামনে নিচের মতো একটি উইন্ডো শো করবে এখানে আপনি আগের মতো ফাইলের নাম ও কোথায় রাখবেন সেটা সিলেক্ট করে নিয়ে বাটনে ক্লিক করুন।

 

 

এখন আপনার কম্পিউটার স্ক্রিনে অন্য একটি উইন্ডো আসবে নিচের মতো।

 

 

এখান থেকে আপনি আপনার ফাইলটির Color Model, Quality, Resolution ইত্যাদি নিজের মতো করে ঠিক করে নিয়ে OK আইকনটিতে ক্লিক করুন। ক্লিক করার পরে আপনার ফাইলটি আপনার সিলেক্টকৃত অবস্থানে সেভ হয়ে যাবে।

আবার আপনি যদি চান তাহলে Ctrl+P কী চেপে এখান থেকেই প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।

যাইহোক আমরা সবাই ইলাস্ট্রেটর দিয়ে রোল আপ ব্যানার তৈরী করা শিখে গেলাম।

আসলে ডিজাইন যাইহোক না কেনো ভালোভাবে ডিজাইন করাটাই হলো মূল কথা। আর রোল আপ ব্যানার ডিজাইন করতে গেলে নিজেকে আরো ক্রিয়েটিভ ভাবে তৈরী করে নিতে হবে। কারণ আপনার ডিজাইন দ্বারা একটি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং এর কাজ পরিপূর্ণ ভাবে সফল ভাবে সম্পন্ন হবে।

আমার এই ছোট্ট লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে এখানেই শেষ করছি।

আসসালামু আলাইকুম।

 

 

ধন্যবাদান্তে

মোঃ রিয়াদ আহম্মেদ

Facebook Comment