এডোবি ইলাস্ট্রেটর কি ও এর যাবতীয় টুলস ও টুলস শর্টকাটঃ - Graphic School

Blog

এডোবি ইলাস্ট্রেটর কি ও এর যাবতীয় টুলস ও টুলস শর্টকাটঃ

এডোবি ইলাস্ট্রেটর কি? চলুন জেনে নিই!

আমরাতো সবাই জানি এডোবি ইলাস্ট্রেটর একটি এডোবি প্যাকেজের অ্যাপলিকেশন সফটওয়্যার। যা দ্বারা কোনো কিছুর ডিজাইন করা হয়। মূলত এটি একটি গ্রাফিক্স ডিজাইনের সফটওয়্যার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এডোবি করপোরেশন এটি নিয়ন্ত্রণ করছে। বর্তমানে আধুনিক ডিজাইনের জন্য এডোবি ইলাস্ট্রেটর অনেক জনপ্রিয় একটি সফটওয়ারের তালিকায় রয়েছে। আপনি এডোবি ইলাস্ট্রেটর দিয়ে যেকোনো কিছুর ডিজাইন তৈরি করতে পারবেন এবং যেকোনো ডিজাইন মডিফাই করতে পারবেন। আপনি বর্তমান বাজারে এডোবি ইলাস্ট্রেটরের অনেক নতুন আপডেট ভার্সনের সফটওয়্যার পাবেন। আপনি আপনার ইচ্ছা মতো যেকোনো ভার্শন কালেক্ট করে ডিজাইনের কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।

ইলাস্ট্রেটর কি কি কাজে ব্যবহার করা হয়? আমরা আগেই জেনেছি যে, এডোবি ইলাস্ট্রেটর একধরনের ডিজাইনিং সফটওয়্যার। এর দ্বারা আপনি অতি সহজেই যেকোনো লেখা ও ছবি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন করতে পারবেন। চলুন বিস্তারিত জেনে নিই।

>বিভিন্ন ধরনের কার্ড যেমন বিয়ের কার্ড, ভিজিটিং কার্ড, ইনভিটিশন কার্ড ইত্যাদি আপনি সুন্দর ভাবে ডিজাইন করতে পারবেন।

>বিভিন্ন পোস্টার, লিফলেট, প্রস্পেক্টাস বা বিজ্ঞাপন আপনি খুব ভালো ভাবেই ডিজাইন করতে পারবেন।

>অনেক ইউনিক ভাবে আপনি বইয়ের কভার পেজ, বিভিন্ন ব্যানার অল্প চেষ্টায় ভালো ভাবে ডিজাইন করতে পারবেন এই এডোবি ইলাস্ট্রেটর দিয়ে।

এখন এডোবি ইলাস্ট্রেটর ওপেন করা শিখে নিইঃ এডোবি ইলাস্ট্রেটর দিয়ে কাজ করতে চাইলে আপনার একটি কম্পিউটার থাকতে হবে। আপনার যে ডিভাইস থাকুক না কেনো উক্ত ডিভাইসে এডোবি ইলাস্ট্রেটর অ্যাপলিকেশনটি ইন্সটল করে নিতে হবে। সম্পন্ন ইন্সটল হওয়ার পরে আপনাকে নিচের মতো করে ওপেন করে নিতে হবে। Start> All Programs> Adobe Master Collection CS6…> Adobe Illustrator CS6 এ ক্লিক করুন।

ক্লিক করার পরে আপনার ডিভাইসের মনিটরে নিচের মতো উইন্ডো শো করবে।

এই উইন্ডোতে লক্ষ্য করলে আপনি দেখতে পারবেন টাইটেল বার, মেনু বার, ডিজাইন করার জন্য কিছু খালি জায়গা যাকে বলা হয় আর্টবোর্ড, হরিজন্টাল ও ভারটিকেল স্ক্রল বার, প্যালেট ও টুল বক্স। আপনাদের যারা মাইক্রোসফট নিয়ে কাজ করেছেন তারা সহজ ভাবেই বুঝতে পারবেন এই টাইটেল বার, মেনু বার কি। আপনারা শুধু মাত্র এই আর্টবোর্ড,প্যালেট ওটুল বক্স নিয়ে কিছু জানেন না।

তাহলে প্রথমেই জেনে নেই  কি? আসলে আর্টবোর্ড হলো ডিজাইন করার জন্য খালি জায়গা।( নিচে দেখানো হয়েছে)

এখন আসি টুল বক্স পরিচিতি নিয়ে।

আমরা নিচে ছবির সাহায্যে টুল বক্সের পরিচিতি ও এর শর্টকাট কী সম্পর্কে জেনে নিই।

>Selection Tool (V): এই টুল দিয়ে আপনি খুব সহজেই যেকোনো অবজেক্টকে সিলেক্ট করতে পারবেন। একাধিক অবজেক্ট সিলেক্ট করার জন্য আপনাকে Shift  বাটনে চেপে যে যে অবজেক্ট সিলেক্ট করবেন সেই সেই অবজেক্টে ক্লিক করতে হবে।

>Direct Selection Tool (A): এই টুল আসলে একটি গ্রুপ টুল। এই টুল অপশনের মধ্যে আর একটি টুল আছে যার নাম Group Selection Tool. এই টুল দিয়ে যেকোনো অবজেক্টের এংকর পয়েন্টে ক্লিক করে যেকোনো আকৃতিতে আনতে পারবেন।

>Magic Tool (Y): এই টুল ব্যবহার করা হয় একই কালারের একাধিক অবজেক্টকে সিলেক্ট করার জন্য।

>Lasso Tool (Q): এই টুল দিয়ে আপনি আপনার অবজক্টের কিছু কিছু অংশ পরিবর্তন করা যায়।

>Pen Tool (P): এই টুলটিও একটি গ্রুপ টুল। যার সাথে Add Anchor Point Tool, Delete Anchor Point Tool & Convert Anchor Point Tool আছে।

>Text Tool (T): এই টুল ব্যবহার করে আপনি অবজেক্টের ওপরে বিভিন্ন কিছু লিখতে পারবেন।

> Line Segment Tool (\): এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। যার অধীনে আরো ৪ (চার)টি টুল আছে। যেমনঃ Arc Tool (বাঁকা করে কোন কিছু আঁকার জন্য; Spiral Tool (গোলাকার আকৃতি বিশিষ্ট শেপ আঁকার জন্য); Rectangular Grid Tool (চার কোন বিশিষ্ট গ্রিড আঁকার জন্য); Polar Grid Tool (মাকড়শার জালের ন্যায় গ্রিড আঁকার জন্য)।

>Rectangle Tool(M): চারকোনা বিশিষ্ট যে কোন মাপের অবজেক্ট আঁকার জন্য এই  টুলটি ব্যবহার হয়। এই টুলের সাথে আরো যে সকল টুল রয়েছে তা হচ্ছে- Rounded Rectangle Tool (কিছুটা স্মুথ চার কোনা বিশিষ্ট অবজেক্ট আঁকার জন্য এই টুলটি ব্যবহৃত হয়); Ellipse Tool (ডিম্বাকৃতির কোন অবজেক্ট আঁকতে এই টুলটি ব্যবহৃত হয়); Polygon Tool (এই টুলটি দিয়ে বহুভোজ ক্ষেত্র তৈরি করা যায়); Star Tool (এই টুলটি দিয়ে তারা জাতীয় অবজেক্ট তৈরি করা যায়) এবং Flare Tool (এই টুলটি দিয়ে সূযের আলোর ন্যায় অবজেক্ট তৈরি করা যায়)।

>Paintbrush Tool (B): এই টুলটা দিয়ে ব্রাশের মতো কাজ করতে পারবেন।

> Pencil Tool (N): এই টুল দিয়ে আপনি পেন্সিলের মতো লেখালেখি বা আঁকাআঁকি করতে পারবেন। এটি একটি গ্রুপ টুল।

>Blob Brush Tool (Shift + B): এই টুল দিয়ে ব্রাশ টুলের মতো কাজ করা যার।

>Eraser Tool (Shift + E): এই টুল দিয়ে সুন্দর ভাবে যেকোনো অবজেক্টের কিছু কিছু অংশ সহজেই মুছে ফেলতে পারবেন। এটিও একটি গ্রুপ টুল।

> Rotate Tool (R): রোটেট টুলটি একটি গ্রুপ টুল। কোন অবজেক্টকে ঘুরানো বা পালাক্রমে ঘুরানোর জন্য উক্ত টুলটি ব্যবহৃত হয়। এই গ্রুপের অপর টুলটি হচ্ছে Reflect Tool.

>Scale Tool (S): এই গ্রুপ টুলটি দিয়ে যে কোন অবজেক্টকে স্কেল অনুযায়ী বড় করা যায়।

>Width Tool (Shift + W): এই সিঙ্গেল টুলটি দিয়ে অবজেক্টের যে কোন পাথকে বিভিন্ন প্রকার আকৃতি প্রদান করা যায়>

>Free Transform Tool (E): এই সিঙ্গেল টুলের মাধ্যমে অবজেক্টকে ফ্রি ভাবে রূপান্তর, পরিবর্তন ও স্থানান্তর করা যায়।

>Shape Builder Tool (Shift + M): এই গ্রুপ টুলের সাহায্যে অবজেক্টের যে কোন আকৃতি নির্মাণ করা যায়।

> Perspective Grid Tool (Shift + P): এই গ্রুপ টুলটি দিয়ে নির্দিষ্ট গ্রিড দেয়া যেতে পারে।

> Mesh Tool (U): এই সিঙ্গেল টুলটি দিয়ে একটি অবজেক্ট-এর বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন রং দিয়ে রঙ্গিন করা যায়।

>Gradient Tool (G): উক্ত সিঙ্গেল টুলের মাধ্যমে একটি অবজেক্টে সাদা-কালোর মিশ্রন কিংবা ইচ্ছেমতো অন্যান্য কালার দেওয়া যায়।

>Eyedropper Tool (I): এই গ্রুপ টুলের মাধ্যমে একটি অবজেক্টের যে কোন একটি নির্দিষ্ট অংশের হুবহু কালারকে অন্য অংশে কালার দেওয়া যায়।

>Blend Tool (W): এই সিঙ্গেল টুলটি দিয়ে দুইটি অবজেক্টের মধ্যখানে কালার শেপ-এর সংমিশ্রণ ঘটানো যায়।

> Symbol Prayer Tool (Shift+S): এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। এর কাজ হচ্ছে ইলাস্ট্রেটর এর নিজেস্ব প্রতীক অবজেক্ট-এর ভিতর কিংবা বাহিরে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অবজেক্টকে আকর্ষণ করে তোলা।

>Column Graph Tool (J): এই গ্রুপ টুলটি দিয়ে গ্রাফ আকারে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের তথ্য কিংবা একটি দেশের জনসংখ্যার চিত্র উপস্থাপন করা যায়।

>Art-board Tool (Shift+O): এই টুলটিতে ক্লিক করে আর্টবোর্ডকে অবজেক্টসহ সুবিধামতো স্থানে রেখে কাজ করা যায়।

>Slice Took (Shift+K): কোন অবজেক্টকে খন্ড-খন্ড আকারে দেখানোর জন্য এই টুলটি ব্যবহার করা হয়।

> Hand Tool (H): এই গ্রুপ টুলটি দিয়ে অবজেক্টসহ আর্টবোর্ড ডান-বাম কিংবা উপর-নীচে সরানো যায়।

>Zoom Tool (Z): এই টুলটি দিয়ে আট বোডকে ইচ্ছেমতো বড় কিংবা ছোট করে কাজ করা যায়।

> Fill (X): কোন অবজেক্টের ভিতরের অংশে রং করাকে ফিল কালার বলে।

> Stroke (Click to Active ) (X): অবজেক্টের বাহিরের অংশ তথা পাথ বা লাইনকে ষ্ট্রোক বলে।

>Swap Fill and Stroke (Shift X): টুল বক্সের এ্যারো চিহ্নিত এই টুলে ক্লিক করলে ফিল এবং ষ্ট্রোকের কালার স্থানান্তরিত হয়।

>Default Fill and Stroke (D): টুল বক্সের এই টুলটিতে ক্লিক করলে ফিল ও ষ্ট্রোকের বিভিন্ন কালার থাকলেও তা এমনিভাবে সাদা (ফিল) কালো (ষ্ট্রোক)-তে পরিবর্তীত হয়ে যায়।

>Color (<): এই টুলে আর্টবোর্ড সব শেষে সিলেক্টকৃত অবজেক্টের কালার প্রদর্শিত হয়।

 

>Gradient (>): উক্ত টুলে ক্লিক করার মাধ্যমে সিলেক্টকৃত অবজেক্টে সাদা-কালোর মিশ্রিত রং প্রদর্শন করা যায়।

 

>None (/): এই টুলে ক্লিক করার মাধ্যমে সিলেক্টকৃত ফিল কিংবা ষ্ট্রোক কালারকে বাদ দিয়ে কালার শুন্য করা যায়।

>Draw Normal (Shift+D to switch mode): আর্টবোর্ড কোন অবজেক্ট তৈরি করলে তা নরমাল মোডেই থাকে।)

 

>Draw Behind (Shift+D to switch mode): একটি অবজেক্টের পিছনে যদি আরেকটি অবজেক্ট থাকে তাতে কোন পরিবর্তন আনতে গেলে ড্র বিহাইন্ড টুলটি হাই লাইট হয়।

 

>Draw Inside (Shift + D to switch mode): একটি অবজেক্ট সিলেক্ট করা অবস্থায় এই অপশনে ক্লিক করলে চতুর্দিকে বাউন্ডিং বক্সের মতো তৈরি হয়।

 

>Change Screen Mode (F): স্ক্রিন মোড পরিবর্তন করার জন্য এই টুলটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

আমরা মোটামুটি ভাবে এডোবি ইলাস্ট্রেটর সম্পর্কে জেনে গেলাম।

আশা করি আমার লেখাটা আপনাদের সবার অনেক কাজে দিবে। সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে এখানেই শেষ করছি।

 

Facebook Comment