কোনটি আপনার পছন্দ জব নাকি ফ্রিল্যান্সিং...... - Graphic School

Blog

কোনটি আপনার পছন্দ জব নাকি ফ্রিল্যান্সিং……

লেখা-পড়া শেষ করার পর প্রফেশনাল জীবন শুরু পর প্রথম মাথায় আসে আমি কোনটা করবো?  জব নাকি ফ্রিল্যান্সিং? আপনি জব করেন বা ফ্রিল্যান্সিং করেন সব সময়ই এই ব্যাপারটা নিয়ে সংশয় কাজ করে। জব এবং পক্ষ এবং ফ্রিল্যান্সিং পক্ষ বিপক্ষে অনেক দিক রয়েছে। সেই সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। সিদ্ধান্ত নিবেন আপনি। আশা করি আজকের আর্টিকেল আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

ফ্রিল্যান্সার বলতে যারা অনলাইন মার্কেট প্লেসে কাজ করে এবং বিভিন্ন ক্লায়েন্টের কাজ করে নিজের ইচ্ছা মত। আর জব হয়েছে যারা অফিসে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সুনির্দিষ্ট বেতন কাজ করে।

 

কাজ করার স্বাধীনতা

আমাদের দেশে অনেক চাকরীজীবীরা  ১০টা-৬টা কাজ করে। তবে এই সময়ের বাইরেও অনেক সময় অফিসের কাজ করে। অফিস টাইম এর বাইরেও ইমেইল চেক, ফোনে অফিসের বিভিন্ন কাজ করে থাকে। এর বাইরে চাকরীজীবীরা বিভিন্ন সরকারি ছুটি, সিক লিভ,পাওয়া সহ বিভিন্ন সুবিধা পায়। এছাড়া সুযোগ সুবিধা বিভিন্ন ভাতা পেয়ে থাকে।

 

আর যারা ফ্রিল্যান্সিং করে তাদের প্রধান সুবিধা হচ্ছে নিজের ইচ্ছা মত কাজ করা যায়। এখানে ৯-৫ টার অফিসের মত কোন ধরা বাধা নির্ধারিত নিয়ম নেই। অনেক ফ্রিল্যান্সার আছেন যারা পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করে। ফ্রিল্যান্সার হতে পারেলে আপনি পরিবারের অনেক সময় দিতে পারবেন।  এবং যারা বেড়াতে পছন্দ করেন তাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং করা  সোনায় সোহাগা। আর ফ্রিল্যান্সিং করা অনেকটা ছোট খাটো ব্যবসায় পরিচালনা করার মত। কারণ সাথে ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট থাকলে যেখানে ইচ্ছা সেখানে কাজ করতে পারবেন।

 

কন্ট্রোল

আপনি যদি যে কোম্পানীতেই কাজ করেন সব সময়ই আপনার একজন বস থাকবে যে আপনাকে কি করতে হবে তা বলে দিবে। কোম্পানী নিয়ম কানুন গুলো আপনাকে ফলো করতে হবে। এই হিসেবে বলা যায় আপনার কাজে ফ্রিল্যান্সারের তুলনায় খুব কম দখল থাকবে। বস যদি ভাল হয় তাহলে তার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখা এবং অনেকটা স্বাধীনতা পাওয়া যায়।

 

আর যদি আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হইয়ে থাকেন তাহলে কাজেরপুরো কন্ট্রোল আপনার কাছে থাকবে। আপনি যদি গ্রাফিক ডিজাইন কাজে এক্সপার্ট হোন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে অন্যতম পছন্দ। আপনার পছন্দ অনুযায়ী গিগ করবেন আর বিভিন্ন কাজের পারবেন। তাই নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করার জন্য অথবা পোর্টফোলিও তৈরি করার জন্য ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে সেরা পছন্দ। প্রত্যেক প্রকল্পে আপনার একজন বস থাকবে যিনি আপনাকে পরামর্শ দিবে আপনাকে কাজ করতে হবে সেভাবে। যদি ক্লায়েন্টের চাহিদা মত কাজে করতে না পারেন তাহলে সমস্যায় পরবেন। তবে ফ্রিল্যান্সিং এ সমস্যার তুলনায় সুবিধা বেশি।

 

কাজ করার তাগিদ

যারা জব করে তাদের ক্ষেত্রে যখন কোন কোম্পানিতে চাকরী করবেন তখন মটিভিটেড হবেন অনেক ভাবেই এবং নিয়ম অনুযায়ী। আপনার কর্মক্ষমতা পুরো বছর জুড়ে যা থাকবে সেটা বিবেচনা করে পরের বছর আপনার স্যালারি বাড়বে, নাকি পদোন্নতি পাবেন সেটা নির্ভর করবে। এজন্য  আপনার পদোন্নতি জন্য আপনি সব সময়ই কাজ করার তাগিদ অনুভব করবেন।

 

আর অন্য দিকে আপনি যেহেতু ফ্রিল্যান্সার তাই যে কোন ধরণের মটিভেশন পুরোপুরি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ক্লায়েন্ট আপনাকে খুজে বের করতে হবে, মার্কেটিং করতে হবে, আপনার পোর্টফোলিও সাইট ডিজাইন করতে হবে এবং কাজের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। সব কিছু আপনাকে করতে হবে কেউ কোন প্রেসার দিবে না, এমনকি কেউ বলবে না এখন কাজ করো না কেনো। যদি কাজ ৭ দিনের মধ্যে করতে হয় তাহলে আপনি বুঝবেন যে আপনি ৬ দিন ঘুমাবেন না একটু একটু করে কাজ শেষ করবেন। কিন্তু ৭ দিনের মাথায় আপনাকে সেই কাজ ঠিক ক্লায়েন্টকে জমা দিতে হবে। এখানে আপনি যদি নিয়ম মেনে কাজ করতে পারেন তাহলে কোন সমস্যাই নেই।

 

ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধাঃ

পরিবারকে সময় দেয়া যায়

অফিস রাজনীতি থেকে দূরে থাকা যায়

কাজের সময় নিজেই ঠিক করে কাজ করা যায়

নিজের পছন্দ মত কাজ করা যায়

যেখানে খুশি সেখানে কাজ করা যায়

 

জবের সুবিধাঃ

বিভিন্ন বেতন-ভাতা পাওয়া যায়

নিজ দেশে নিজের মেধা বিনিয়োগ করা যায়।

 

এগুলো অনেকটা ক্যারিয়ার নির্দেশিকা বলতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার প্রথমে কষ্টকর হলেও পড়ে অনেক শান্তিময়। গাইডলাইন পড়ে কঠিন মনে হতে পারে তবে আসলে বেশি চিন্তার কিছু নেই। আপনি যদি কোন বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন যেমনঃ গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন। তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং গড়তে পারেন। যদি আপনি গ্রাফিক ডিজাইন শিখতে চান তাহলে গ্রাফিক স্কুল অফ বাংলাদেশে যোগাযোগ করতে পারেন। গ্রাফিক স্কুল অফ বাংলাদেশে গ্রাফিক ডিজাইন এবং ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করানো হয়।

 

বন্ধুরা কেমন লাগলো আজকের বিষয়। সবাই ভালো থাকবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

 

লিখেছেনঃ

সৈয়দ গোলাম রাব্বী

Facebook Comment