ক্যারিয়ার গড়তে ফাইভার! - Graphic School

Blog

ক্যারিয়ার গড়তে ফাইভার!

অনলাইনে ক্যারিয়ার গঠনের অন্যতম ও সবচেয়ে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস ফাইভার। এই মার্কেটপ্লেসটা সব মার্কেটপ্লেস থেকে আলাদা। অনান্য যেসব মার্কেটপ্লেস আছে সেগুলোতে আপনাকে বায়ার আপনাকে কাজ অফার করবেন। কিন্তু এখানে আপনি যে কাজটি করতে পারদর্শী সেই কাজটি এখানে অফার করবেন। তার পর বায়ার রা তাদের প্রয়োজন আনুযায়ী কাজ করে নিবেন। ফলে আপনাকে আর নতুন করে কয়াজ খুঁজতে হবেনা। বরং বায়াররাই আপনাকে খুঁজে তাদের কাজ করে নিবেন আপনাকে দিয়ে। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনাকে ইংরেজিতে পারদর্শী হতে হবে। কারণ এখানে সব বায়ার অন্য দেশের। আর একজন মানুষের পক্ষে একসাথে অনেকগুলো ভাষা কক্ষনোই আয়ত্ত করা সম্ভব না। সে জন্য আপনাকে ভালো রকমের ইংরেজী শিখতে হবে। আপনি যদি ইংরেজী না জানেন তাহলে আপনার জন্য ফ্রিল্যান্সিং নয়।

চলুন জেনে নেই ফাইভার মূলত কি?

ফাইভার হলো এমন একটি ওয়েবসাইট মার্কেটপ্লেস, যেখানে আপনি আপনার কাজগুলো বিক্রি করে ডলার ইনকাম করে নিজের ক্যারিয়ারে পরিবর্তন করতে পারেন। ধরুন আপনি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার। আপনি আপনি আপনার একাউন্টে প্রবেশ করে ৫ ডলারের বিনিময়ে একটি লোগো ডিজাইন করার কাজের জন্য আপনার কনটেন্ট পোস্ট করলেন। তারপরে যদি কোনো বায়ার লোগো তৈরী করতে চায় তাহলে আপনাকে দিয়ে তিনি ৫ ডলার দিয়ে একটি লোগো তৈরী করে নিতে পারেন। আসলে এখানে গ্রাফিক্স ডিজাইন ছাড়াও অনেক ধরনের কাজের ক্যাটগরী রয়েছে।

যেমনঃ

> ধরুন আপনি ভালো মানের ব্লগ লিখতে পারেন। তাহলে আপনি ব্লগ লিখে আয় করতে পারেন।

> কোনো সাইটের SEO এর কাজ করে আয় করতে পারেন।

> আপনি যদি ওয়েব ডিজাইনের কাজ করতে পারেন তাহলে আপনার ভাগ্যের চাকা এখানেই ঘুরতে পারে। কারন এখানে ওয়েব ডিজাইনের অনেক চাহিদা রয়েছে। আর আপনি একটি ডিজাইন করে ভালো রকমের অর্থ আয় করতে পারেন।

> আপনি যদি ছবি আঁকায় পারদর্শী হন তাহলে এখানে আপনি আপনার বায়ারকে ছবি এঁকে দিয়ে ডলার আয় করতে পারেন।

> আপনার যদি ফটোগ্রাফার হওয়ার ইচ্ছা থাকেন তাহলে এই কাজেও আপনি এখান থেকে ভালো কিছু করতে পারবেন।

এখন আসি ফাইভার আপনাকে কিভাবে কাজ দিবে?

ফাইভারে কাজ করার জন্য আপনাকে ফাইভারে একটি একাউন্ট খুলতে হবে। আশা করি কম বেশি আপনারা সবাই একাউন্ট তৈরি করতে পারেন। চলুন আমরা একাউন্ট তৈরি করার নিয়মগুলো জেনে নেই।

প্রথমে আপনার কম্পিউটারের যেকোনো একটি ব্রাউজার ওপেন করুন। তারপরে ব্রাউজারটির সার্চ বক্সে Fiverr.com (এখানে ক্লিক করুন )লিখে সার্চ করুন। পরিপূর্ণ ভাবে সার্চ কমপ্লিট হওয়ার পরে আপনার কম্পিউটারের স্ক্রিনে একটি পেইজ ওপেন হবে। পেইজটিতে Sign Up নামে অপশন আছে। অপশনটিতে ক্লিক করুন। তাপরে আপনার সামনে নিচের মতো একটি ফর্ম আসবে।

এখানে যে বক্স এ যা চাইছে তা বসিয়ে ফেলুন। তারপরে Register-এ ক্লিক করুন।

একাউন্ট তো তৈরি করে ফেললেন। এখন আসি ফাইভারে কাজ কাজ নিয়ে।

ফাইভারে কাজ পেতে হলে আপনাকে সর্বপ্রথমে গিগ তৈরী করতে হবে এবং এটা সম্পর্কে আপনাকে বুঝতে হবে। এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন উদিত হতে পারে যে, গিগ কি? তো চলুন গিগ কি জেনে নেই।

গিগঃ আসলে গিগ হলো আপনি যে কাজে পারদর্শী সেই কাজের ওপরে বায়ারদের অফার করা একটি সার্ভিসের নাম। চলুন গিগ তৈরী করা শিখে নেই।

গিগ তৈরী করার জন্য আপনাকে ফাইভারে লগ ইন করতে হবে। তারপরে নিচের পেইজের মতো একটা পেইজ আসবে।

এখন Arrow চিহ্নিত সবুজ রংয়ের ডলার ইনডিকেটর বক্সে ক্লিক করুন। তারপরে My Sales এ ক্লিক করে পুল ডাউন করুন।

তারপরে Arrow চিহ্নিত Create a Gig এ ক্লিক করুন। তারপরে আপনাকে নিচের মতো অন্য একটি পেইজে নিয়ে যাওয়া হবে। এখানে আপনি আপনার গিগ-এর টাইটেল, ডেসক্রিপশন, ছবি ইত্যাদি লাগাতে পারবেন। গিগ তৈরী করার ক্ষেত্রে আপনাকে আবশ্যই লক্ষ্য কএতে হবে যে আপনার গিগ-এর টাইটেলটা যেনো আকর্ষণীয় হয়। অর্থাৎ এমন একটা টাইটেল সিলেক্ট করুন যেনো আপনার গিগটা কেউ দেখেই ভিতরে প্রবেশ করতে চায়। সেক্ষেত্রে আপনি চাইলে আপনার গিগ এ ভিডিও ব্যবহার করতে পারেন। ভিডিওটা অবশ্যই ৩০-৪০ সেকেন্ডের হতে হবে। গিগ-এ ভিডিও এড করলে গিগটি বিক্রির সম্ভবনা ৬০% বেড়ে যায়। আপনি যদি নিজেই আপনার ফাইভারের নিজের কাজ নিজে উপস্থাপন করার মাধ্যমে ভিডিও বানান তাহলে এটা আপনার সেল পারসেন্টটা ৯৬% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।

গিগ-এ ভিডিও এড করার জন্য কিছু নিয়ম আপনাকে অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে। সেগুলো আপনাদের সুবিধার্থে নিচে দেওয়া হলোঃ

> গিগ-এ ব্যবহারকৃত ভিডিও অবশ্যই ১ মিনিটের কম হতে হবে।

> ব্যবহারকৃত ভিডিও অবশ্যই ইংরেজী ভাষায় হতে হবে এবং স্পষ্ট হতে হবে।

> ভিডিও তে অবশ্যই “Exclusively on Fiverr” থাকতে হবে। এটা লেখার মাধ্যমেই হোক আর ভিডিও-এর কথার মধ্যেই হোক।

> যে ভিডিওটি আপনি আপলোড করছেন ওই ভিডিওটি আপনার গিগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারঃ

আপনার গিগ তৈরি হওয়ার পরে এমন কাজ করতে হবে যেনো আপনার গিগ্র প্রচুর পরিমান ক্লায়েন্ট ভিজিট করতে আসে বা ভিজিট করে। সেজন্য আপনাকে গিগটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে (ফেসবুক, টুইটার, লিংকডিন, রেডিট ইত্যাদি) শেয়ার করতে হবে।

আপনি ফাইভারে ডিজাইন সেল করলেন, এখন টাকা উইথড্র করতে হবে আপনাকে।

তো চলুন জেনে নেই ফাইভার কিভাবে টাকা দেয়?

আপনি ফাইভার থেকে উপার্জন করা টাকা Paypal এর মাধ্যমে উত্তোলন করতে পারবেন। এক্ষত্রে ফাইভার আপনার টাকা থেকে ২০% টাকা কেটে নিবে। অর্থাৎ আপনি যদি ১০ ডলার তুলতে চান তাহলে আপনার থেকে ফাইভার ২ ডলার কেটে নিবে আর আপনি ৮ ডলার তুলতে পারবেন। বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য সহজ ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট সিস্টেম পেওনিয়ার ডেবিট মাষ্টার কার্ড।

সবশেষে বলতে পারি, আপনি যতো বেশি করে মার্কেটিং করতে পারবেন ততো বেশি আপনার গিগ সেল করতে পরবেন। সেজন্য আপনাকে অনেক বেশি অনলাইনে থাকতে হবে এবং বায়ারদের সাথে কমিউনিকেশন করার চেষ্টা করতে হবে,সেই সাথে অর্ডার কমিপ্লিট রেট, ডেলিভারি অন টাইম রেট এবং রেসপন্স টাইম ঠিক রাখার চেষ্টা করবেন। আপনার যদি কাজ করার প্রবল ইচ্ছা ও দক্ষতা থাকে আপনিও সফল হবেন।

আমার এই ছোট্ট লেখাটি পড়ে আশা করি সবাই সফল হবেন। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এখানেই শেষ করছি। আসসালামুয়ালাইকুম!

 

লিখেছেন

মোঃ রিয়াদ আহম্মেদ

Facebook Comment