গ্রাফিক্স ডিজাইনে ক্যারিয়ার গড়ুন! - Graphic School

Blog

গ্রাফিক্স ডিজাইনে ক্যারিয়ার গড়ুন!

ক্রিয়েটিভ কিছু করতে চান? তাহলে আজই হয়ে উঠুন একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার। গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে কথা বলতে গেলে উঠে আসে গ্রাফিক্স নিয়ে নানা ধরণের প্রশ্ন। তার মধ্যে প্রধান ও সাধারণ প্রশ্ন হলো গ্রাফিক্স বা গ্রাফিক্স ডিজাইন কি? তো চলুন জেনে নেওয়া যাক গ্রাফিক্স ডিজাইন কি?

সাধারণভাবে বলা যায় গ্রাফিক্স হলো অঙ্কন বিষয়ক জ্ঞান বা অঙ্কন করা। আর সেই অঙ্কনটা এমন হতে হবে যেনো সেটা কোনো নির্দিষ্ট কিছুকে প্রকাশ করে। কিন্তু আমরা বর্তমানে কম্পিউটার দ্বারা কোনো কিছু অঙ্কন করাকেই গ্রাফিক্স ডিজাইন বলে থাকি। আসলে অনেকেই ভাবেন যে, গ্রাফিক্স ডিজাইন হলো পরিকল্পনা মাফিক কনো নকশা। মূল কথা হলো, পৃথিবীতে যা যতো ডিজাইন আছে তার সব কিছুই গ্রাফিক্স ডিজাইন।

এখন জেনে নেই একজন সফল গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে হলে প্রথমে কি কি জানতে হবে? গ্রাফিক্স সম্পর্কে জানতে গেলে সর্বপ্রথমে আমি যেটা বলবো সেটা হলো ধৈর্য সহকারে কাজ করার মতো মন-মানসিকতা থাকতে হবে। সেই সাথে গ্রাফিক্স ডিজাইন সম্পর্কিত সব ধরণের সফটওয়্যার সম্পর্কে ভালো রকমের ধারনার অধিকারী হতে হবে। সফটওয়্যারগুলো হলো> অ্যাডোবি ফটোশপ, অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর, অ্যাডোবি ইমেজ রেডি, কোয়ার্ক এক্সপ্রেস, পেজমেকার।

এগুলো সফটওয়্যার সম্পর্কে যতো পারেন বেশি বেশি জ্ঞানার্জন করুন। তাহলে আপনার জন্য গ্রাফিক্স জগতে পা দেওয়ার পরবর্তী ধাপটা সহজ হবে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনার কে বা কি?

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে গ্রাফিক্স ডিজাইনার কি? আসলে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হলেন উনিই যিনি গ্রাফিক্স নিয়ে কাজ করছেন। গ্রাফিক্স ডিজাইনার হলেন তিনি, যিনি গ্রাহকের চাহিদানুযায়ী বেশ কিছু কালার, টাইপফেস, ইমেজ এবং অ্যানিমেশন ব্যবহারের মাধ্যমে তার চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হন। বর্তমান সময়ে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের সংখ্যা অনেক। কিন্তু ভালো মানের বা ক্রিয়েটিভ ডিজাইনারের সংখ্যা খুব কম। তাই শুধু গ্রাফিক্স জানা থাকলেই ডিজাইনার হওয়া যায়না। সেক্ষেত্রে নিজের বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে নিজের কর্মক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেজন্য প্রচুর পরিমানে আপনাকে ইন্টারনেটে সময় ব্যয় করতে হবে এছাড়াও অনেক পরিশ্রম করতে হবে। অনেক সফমকাম গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের কাজের উদাহরণ লক্ষ্য করতে হবে। তারা কেমন করে কাজ করছে এবং কেমন করে সেটা কেমন করে মার্কেটপ্লেসে বিক্রি করছে এই বিষয়গুলো ভালোভাবে লক্ষ্য করাও জরুরী। এছাড়াও ডিজাইন আইডিয়া বের করার জন্য প্রয়োজনীও মুড বোর্ড, মক-আপস, স্কেচ ইত্যাদি তৈরি করার দক্ষতা, খুব ভালো কমিউনিকেশন স্কিল থাকাটাও অত্যন্ত জরুরী।

গ্রাফিক্স ডিজাইন কেমন করে শিখবো?

যেকোনো কিছু শেখার জন্য অনেকের অনেক সাহায্যের প্রয়োজন হয়। আর গ্রাফিক্সের বিষয়টা এতো বিশাল যে এর কোনো শেষ নেই। আপনি যতই শিখুন ততোই অজানা থাকবে বিষয়টার ওপরে। বর্তমান সময়ে অনেক প্রতিষ্ঠানই গ্রাফিক্স নিয়ে শিক্ষা প্রদান করে আসছে। ইউটুবেও অনেক ভিডিও আছে যেগুলো অনেক হেল্পফুল। এছাড়াও Graphic School(ভিজিট করতে ক্লিক করুন ) নামের একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে তারা নিজেরা অনেক যন্ত সহকারে ভিডিও টিউটোরিয়াল তৈরী করে দেশের আনাচে কানাচে পৌঁছিয়ে দিচ্ছে এবং তারা সফল হওয়ার ১০০% নিশ্চয়তা দিচ্ছে। চাইলে আপনিও যোগাযোগ করতে পারেন। তাছাড়াও আপনার কাছের কোনো সফল ডিজাইনারের হেল্প নিতে পারেন। শুধু গাইডলাইন থাক্লেও কাজ হবেনা, কারণ গ্রাফিক্স শেখার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের দরকার। যেমনঃ একটি সচল ও ভালো মানের কম্পিউটার, ইন্টারনেট কানেকশনের ব্যবস্থা ও সব চেয়ে দরকারী যেটি বেশি দরকারী জিনিস সেটা হলো কম্পিউটার চালনায় ভালো রকমের দক্ষতা।

গ্রাফিক্স নিয়ে তো মোটামুটি ধারনা পেয়ে গেলেন, এখন চলুন জেনে নেই গ্রাফিক্সের মার্কেটপ্লেস গুলো সম্পর্কে > ইন্টারনেটের বদৌলতে এখন অনেক অনলাইন মার্কেটপ্লেস তৈরী হয়েছে। যেখানে হাজার হাজার ডিজাইনার কাজ করে যাচ্ছেন। তার মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি মার্কেটপ্লেস হলো> গ্রাফিক রিভার, ৯৯ ডিজাইন, ফাইভার, ফ্রিলাঞ্ছার। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলোতে আপনি চাকুরী পেয়ে যেতে পারেন। এছাড়াও আপনি যদি ভালো মানের একজন ডিজাইনার হয়ে থাকেন তাহলে বাহিরের দেশেও নিজের ক্যারিয়ার তৈরী করে নিতে পারেন।

আগামী বিশ্বের চাহিদা পূরণ করতে আজ থেকেই নিজেকে একজন দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করুন। অন্যান্য সব চাকরির থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন পেশাটি সবচেয়ে নিরাপদ ও ঝামেলা বিহীন। নিরাপদ ও ঝামেলাবিহীন বলার কারণ হলো অন্যান্য সব পেশার বিপরীতে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কোনো কাজের অভাব হয় না। এটা একটি সন্মানজনক পেশাও।

গ্রাফিক্সের ওপরে যার দক্ষতা যতো বারবে তার ততো উপার্জনের অংশটাও বেড়ে যাবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে এই  পেশায় ইনকামের সাইডটা বাড়বে নিজের দক্ষতা ও ক্রিয়েটিভিটির ওপর। তবে এই দক্ষতা ও ক্রিয়েটিভিটি আসবে প্রচুর কাজ করার পরে। এ সময়ে নিজেকে অনেকটা আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। কারণ অনেক বারই অনেকেই অনেক বিষয়ে বাঁধাগ্রস্ত হতে পারেন। তাই আপনাকে অনেক বেশি ধৈর্যশীল হতে হবে।

আমার এই ছোট্ট লেখনীটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।

 

                                                                                                                      লিখেছেন

                                                                                                              মোঃ রিয়াদ আহম্মেদ

Facebook Comment