নতুন-পুরাতন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কিছু কথা! - Graphic School

Blog

নতুন-পুরাতন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কিছু কথা!

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং পেশাটা সবার স্বপ্ন পূরনের সহজ পেশা হিসেবে অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। আর অনেকেই এই পেশার হাত ধরে বহু দূর পৌঁছে গেছে স্বপ্নের দেশে। আর হ্যাঁ এটা আমাদের বাংলাদেশ থেকেই সম্ভব হচ্ছে। আসলে এটার পেছনে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। প্রযুক্তির অগ্রগতি না থাকলে আজকে এটা কখনোই সম্ভব হতোনা।

আমরা অনেকেই মনে করি আউটসোর্সিংও ফ্রিল্যান্সিং একই। কিন্তু এই ধারনাটা সম্পূর্ণ ভুল। তাহলে আসুন জেনে নেই আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং কি জিনিস?

আউটসোর্সিং:

আমরা জানি আউট অর্থ হলো বাহির। আর সোর্স অর্থ হলো উৎস। তাহলে বোঝা যাচ্ছে আউটসোর্সিং মানে হলো বাহিরের কোনো উৎস থেকে আয় করা। সব চেয়ে সহজভাবে বলা যায়, আমাদের যার যার নিজস্ব পেশার বাহিরে ইন্টারনেটে যেকোনো ধরনের কাজ করাকে আউটসোর্সিং বলে।

ফ্রিল্যান্সিং:

বোঝা যাচ্ছে যে ফ্রি মানে হলো স্বাধীন বা মুক্ত। আর ফ্রিল্যান্সিং মানে হলো মুক্ত পেশা। আসলে কোনো ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠানের আওতায় না থেকে স্বাধীন বা মুক্ত ভাবে কাজ করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলে। সাধারনভাবে বলা যায়, কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকে আউটসোর্সিং করে অর্থ উপার্জন করাকেই ফ্রিল্যান্সিং বলে।

যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং একটি মুক্তপেশা, সেজন্য সেহেতু আপনি এখানে যেকোনো ধরনের কাজ করতে পারবেন। যেমন- লেখা লিখি, প্রেজেন্টেশন ডিজাইন, ট্রান্সলেশন, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ইমেজ এডিটিং, ডেভেলপমেন্টসহ আরো অনেক কিছু। এখন আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে আপনি কি করতে চান। কারণ এই সবগুলো কাজ শেখা ও করা আপনার দ্বারা অবশ্যই সম্ভব না। এক্ষেত্রে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে কোন কাজটা আপনার জন্য ভালো হবে বা আপনি কোন কাজটা ভালো ভাবে আপনার আয়ত্তের মধ্যে আনতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগাতে পারেন। এজন্য আপনাকে অবশ্যই কম্পিউটার চালনায় দক্ষ হতে হবে।

এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে ফ্রিল্যান্সার হতে গেলে কতোটুকু কোয়ালিফিকেশন থাকতে হবে?

আসলে ফ্রিল্যান্সার হতে গেলে কোনো কোয়ালিফিকেশনের দরকার পরেনা, কিন্তু আপনাকে ভালোভাবে কম্পিউটার চালানোর ওপর ভালোভাবে জ্ঞানার্জন করতে হবে।

এখন আসি ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে কোন তিনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ-

>বিশ্বাস

>ধৈর্যশীলতা

>আত্মবিশ্বাস

শুধু ফ্রিল্যান্সারের নয় এই তিনটি গুন যার মধ্যে আছে তারা সবাই নিজের লক্ষে পৌঁছাতে পারবে খুব সহজেই।

উক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও আরো ৫টি বিষয় আছে যেগুলো নতুন বা পুরাতন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়গুলো হলো-

১. লক্ষ্য নির্ধারণ করা।

২. ভালো একটি মার্কেটপ্লেসে ভালোমানের একটি একাউন্ট তৈরী করা।

৩. আপনি যে মার্কেটপ্লেসে কাজ করবেন সেই মার্কেটপ্লেসের সম্পর্কে ধারণা নেওয়া।

৪. আপনার স্কিলটেস্ট ও নিজের পোর্টফোলিও তৈরী করা।

৫. নিজের প্রচালনা চালানো।

আসলে আপনি যদি ভালো মানের একজন ফ্রিল্যান্সার হতে চান তাহলে আমি বলবো যে আপনাকে প্রথমে নিজের লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে নিতে হবে, তারপরে আপনাকে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য ভালো রকম ভাবে প্রশিক্ষন নিতে হবে। কেউ কেউ মনে করেন ইন্টারনেট থেকে আয় করার জন্য আগে ভালো প্রশিক্ষকের দরকার। সে জন্য অনেকেই ভালো ধরনের প্রশিক্ষক খুঁজে বেরাচ্ছেন কিন্তু কাজ শেখার কোনো নামই নাই। কিন্তু আমি মনে করি এটা অনেকটাই ভুল। কারণ শুধু ভালো প্রশিক্ষকের থেকে প্রশিক্ষণ নিলেই আপনি ভাল মানের ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন না। ভালো মানের একজন ফ্রিল্যান্সার হতে গেলে আপনাকে প্রচুর খাটাখাটনি করতে হবে। তবে হ্যাঁ যে, প্রশিক্ষক ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয়। কিন্তু আপনি একটু ভেবে দেখেন প্রশিক্ষক শুধু আপনাকে কাজকর্ম শিখিয়ে দিবেন, তারপরে থেকে সব ধরনের কাজ আপনাকেই করে দিবে। কাজ করার সময় আপনি যদি কোনো সমস্যায় পরেন তাহলে আপনার প্রশিক্ষক আপনাকে শুধু সাহায্য করতে পারবেন।

সর্বশেষে আমি বলবো, আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার বা ফ্রিল্যান্সার হতে চান তাহলে আপনাকে সর্বপ্রথম আপনার লক্ষ্য ঠিক করুন। কারণ যদি আপনার কোনো লক্ষ্য না থাকে তাহলে আপনাকে দ্বারা কোনো কাজই সম্ভব না। আর যদি লক্ষ্য ঠিক করতে প্রবলেম ফেস করেন তাহলে আমি বলবো, আপনার দ্বারা যে কাজ সহজেই সম্পুন্ন হবে সে কাজেকে আপনার লক্ষ্য বানান এবং সামনে রেখে এগিয়ে যান।

সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এখানেই শেষ করছি। আসসালামুআলাইকুম।

 

লিখেছেন

     মোঃ রিয়াদ আহম্মেদ

Facebook Comment