ফটোশপের কিছু মজার কাজ - Graphic School

Blog

ফটোশপ এর কিছু মজার কাজ

ফটোশপে কাজ করার সময় অনেক কাজই ধৈর্য্য সহকারে এবং খুব সাবধানে করতে হয়। আর সেই কাজ যদি একাধিকবার করা প্রয়োজন হয় তাহলে তো কথাই নেই। প্রতিবার ধৈর্য্যের পরীক্ষা দেওয়া। এ কাজকে সহজ করার জন্য একবার কাজ করে তাকেই বারবার ব্যবহার করার ব্যবস্থা রয়েছে ফটোশপে। হয়তো আপনি ইমেজে নির্দিষ্ট কোন Effect দিতে চান, নির্দিষ্ট প্যারামিটার ব্যবহার করে Black & White করতে চান, এবং এজন্য আপনার রয়েছে বহু ইমেজ। একটি ইমেজে কাজটি করুন। কাজ করার সময় কাজের ধাপগুলি রেকর্ড করুন Action হিসেবে। তারপর অন্য ইমেজে রেকর্ড করা ধাপগুলি Play করুন। সেখানেও একই পরিবর্তন পাওয়া যাবে।

ফটোশপের সাথে দেয়া Action ব্যবহার করেই দেখা যাক কি ফল পাওয়া যায়।

  • একটি ইমেজ ওপেন করুন।
  • Action প্যালেট ওপেন করুন (Window – Actions).
  • Wood Frame Action সিলেক্ট করুন।
  • Action প্যানেলের নিচের অংশেরPlay Icon-এ ক্লিক করুন।

মুহুর্তের মধ্যে ছবির চারিদিকে কাঠের ফ্রেম পাওয়া যাবে।

কিভাবে Action তৈরি করবেনঃ

  • একটি ইমেজ ওপেন করুন।
  • Action প্যানেলেCreate New Action আইকনে ক্লিক করুন। কাজের ধরন অনুযায়ী Action-এর একটি নাম টাইপ করে দিন।
  • Start Recording আইকনে ক্লিক করুন।
  • কাজগুলি করুন।
  • কাজ শেষ হলেStop Recording বাটনে ক্লিক করুন।

 

অন্য ইমেজে এই Action ব্যবহারের জন্য সেটা ওপেন করে Play আইকনে ক্লিক করুন। আগের ইমেজে যা কিছু করেছেন সেগুলো পরের ইমেজে করা হবে।

পাথ ব্যবহারঃফটোশপ মুলত বিটম্যাপ (রাষ্টার) ইমেজ নিয়ে কাজ করলেও ভেক্টর ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। বিটম্যাপ এবং ভেক্টরের পার্থক্য হচ্ছে বিটম্যাপ ইমেজ ছোট ছোট বিন্দু (Pixel) দিয়ে তৈরি। কোন ইমেজকে খুব বড় করলে (জুম) পিক্সেলগুলি দেখা যায়। যে কারনে ছোট ছবিকে বড় করলে ছবির মান নষ্ট হয়। অন্যদিকে ভেক্টর ইমেজ গানিতিক হিসেবে তৈরি। যেকারনে বড়-ছোট যাই করা হোক না কেন সবসময় নিখুত থাকে। সাধারনভাবে ফটোশপ বিটম্যাপের জন্য ইলাস্ট্রেটর ভেক্টরের জন্য এটাই ধরে নেয়া হয়। ফটোশপকে ব্যবহার করা যায় ভেক্টর এবং বিটম্যাপের হাইব্রিড হিসেবে।

ফটোশপে একে বলা হয় পাথ। অন্যান্য ড্রইং সফটওয়্যারের মত পেন টুল ব্যবহার করে পাথ তৈরি করা যায়, আবার সাধারন সিলেকশন থেকেও পাথ তৈরি করা যায়। আবার উল্টোভাবে যদি পেন টুল ব্যবহারে দক্ষ হন তাহলে পাথ তৈরি করে  নিখুতভাবে সিলেকশনের কাজ করতে পারেন।

সিলেকশন থেকে পাথ তৈরিঃ

  • ফটোশপের যে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করে ইমেজের নির্দিষ্ট অংশ সিলেক্ট করুন।
  • Paths প্যানেল ওপেন করুন।
  • Alt চেপে ধরেMake Work Path ক্লিক করুন। ০.৫ অথবা ১ পিক্সেল ব্যবহার করুন।
  • পেন টুল ব্যবহার করে বিভিন্ন এ্যাংকর পয়েন্ট সরিয়ে সিলেকশনকে নিখুত করুন।
  • পাথকে পুনরায় সিলেকশনের পরিনত করার জন্য পাথ প্যানেলে রাইট-ক্লিক করেMake selection সিলেক্ট করুন।

একবার পাথ তৈরি পর তাকে ভেক্টর হিসেবে সহজে নির্দিষ্ট মাপে আনা সম্ভব। বিশেষ করে কম রেজ্যুলুশনের ইমেজ সিলেক্ট করার সময় (ব্যাকগ্রাউন্ড বাদ দেয়ার জন্য) এই পদ্ধতি প্রয়োজন হয়।

পেন টুল ব্যবহার করে পাথ তৈরিঃ

  • একটি নতুন ডকুমেন্ট তৈরি করুন।
  • পেন টুল সিলেক্ট করুন।
  • ডকুমেন্টে ক্লিক করে একটি এ্যাংকর পয়েন্ট তৈরি করুন।
  • আরেক যায়গায় ক্লিক করে আরেকটি এ্যাংকর পয়েন্ট তৈরি করুন। পয়েন্টদুটি একটি সরলরেখা দিয়ে যুক্ত পাওয়া যাবে।
  • আরেক যায়গায় আরেকটি পয়েন্ট তৈরি করুন এবং ড্রাগ করুন। সরলরেখার বদলে বাকা রেখা পাওয়া যাবে। দুপাশে দুটি হ্যান্ডলার পাওয়া যাবে যা ব্যবহার করে বাকানোর পরিমান নিয়ন্ত্রন করা যাবে। হ্যান্ডলার বড় বা ছোট করে এই বাকানোর কাজ নিয়ন্ত্রন করা যাবে।
  • শুরুর এ্যাংকর পয়েন্টে মাউস আনলে একটি বৃত্ত দেখা যাবে। সেখানে ক্লিক করলে একটি ক্লোজ সেপ তৈরি হবে।

এ্যাংকর পয়েন্ট দুধরনের হয়। একটি ষ্ট্রেট পয়েন্ট, যা আগের পয়েন্টের একই দিকে যায়, অপরটি কার্ভ পয়েন্ট যা আগের পয়েন্টের বিপরীত দিকে যায়।

নতুন পয়েন্ট তৈরি, পয়েন্ট মুছে দেয়া, পয়েন্ট পরিবর্তনঃ

পেন টুলে মোট ৫টি টুল রয়েছে। অন্যান্য টুলের মত সেখানে মাউস চেপে ধরে যে কোনটি ব্যবহার করা যাবে।

  • পাথের ওপর নতুন পয়েন্ট তৈরির জন্যAdd Anchor point tool ব্যবহার করুন।
  • কোন পয়েন্ট মুছে দেয়ার জন্যDelete Anchor Point Toolব্যবহার করুন।
  • ষ্ট্রেট পয়েন্ট এবং কার্ভ পয়েন্ট একটি থেকে অপরটিতে পরিবর্তনের জন্যConvert Point Tool টুল ব্যবহার করুন।

পাথ সিলেকশনঃ

পাথ সিলেকশন এবং পরিবর্তনের জন্য পৃথক আরেকটি সিলেকশন টুল রয়েছে। এখানে রয়েছে দুটি টুল। পুরো পাথ সিলেক্ট করার জন্য ব্যবহার করুন। নির্দিষ্ট এ্যাংকর পয়েন্ট সিলেক্ট করার জন্য ব্যবহার করুন।

ষ্ট্রোক পাথঃ

পাথ ব্যবহার করে ড্রইং করার পর সেই পাথকে নির্দিষ্ট ষ্ট্রোক ব্যবহার করতে পারেন।

  • পাথ প্যানেলে রাইট-ক্লিক করেStrike Path সিলেক্ট করুন।
  • ষ্ট্রোকের জন্য ব্রাস বা অন্য টুল সিলেক্ট করুন।

ক্লিপিং পাথঃ

ক্লিপিং পাথ হচ্ছে ইমেজের নির্দিষ্ট অংশকে ব্যবহারের জন্য পৃথক করে দেয়া। সাধারনত মেজমেকিং সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয়। যেমন ইন-ডিজাইনে একটি ছবি ইমপোর্ট করলে একজন ব্যক্তির চতুস্কোন ছবির চারিদিকে টেক্সট ব্যবহার করতে পারেন। ক্লিপিং মাস্ক ব্যবহার করে তার শরীর ঘেসে টেক্সট ব্যবহার করা যাবে।

  • ইমেজের জন্য পাথ তৈরি করুন।
  • পাথ প্যানেলে ডাবল-ক্লিক করে একটি নাম টাইপ করে দিন।
  • পাথ অপশন বাটনে ক্লিক করুন এবংClipping Path সিলেক্ট করুন।

ইলাষ্ট্রেটরে জন্য ক্লিপিং পাথ এক্সপোর্ট করাঃ

পাথসহ ফাইল সেভ করলেই ইলাষ্ট্রেটরে ক্লিপিং পাথ পাওয়া যাবে না। এজন্য

  • File – Export – Paths of Illustrator কমান্ড দিন
  • ফাইলের লোকেশন এবং নাম দিন

ফটোশপে ভিডিও ব্যবহারঃ

ফটোশপে ভিডিও কিংবা ইমেজ সিকোয়েন্স ফাইল ওপেন করে ফটোশপের Effect ব্যবহার করতে পারেন। ফটোশপ সাপোর্ট করে এমন ভিডিও এবং ইমেজ সিকোয়েন্স এর ফরম্যাট হচ্ছে MPEG-1, MPEG-4, MOV, AVI, FLV, MPEG-2, BMP, Dicom, JPEG, OpenEXR, PNG, PSD, Targa, TIFF, Cineon এবং JPEG 2000।

ওপেন করা কোন ডকুমেন্টে ভিডিও ফাইল ওপেন করার জন্যঃ

  • Window মেনু থেকেAnimation সিলেক্ট করুন
  • Convert to Timeline Animation বাটনে ক্লিক করে টাইমলাইন ভিউতে যান।
  • লেয়ার মেনুতে ক্লিক করুন
  • New Video Layer from File ক্লিক করুন এবং ভিডিও ফাইলটি সিলেক্ট করুন।
  • একটি ভিডিও ফাইলকে ওপেন করে লেয়ারে যোগ করতে হলেFile – Open কমান্ড দিন এবং ভিডিও ফাইল সিলেক্ট করুন।

প্লেব্যাক হেড সরিয়ে ভিডিওর প্রিভিউ দেখা যাবে। এছাড়া স্পেসবার চেপেও প্লে-ষ্টপ কমান্ড ব্যবহার করা যাবে।

ভিডিওকে স্লো বা ফাষ্ট করাঃ

ভিডিওর ফ্রেমরেট কমবেশি করে ভিডিওকে স্লোমোশান ভিডিওতে বা ফাষ্ট ভিডিওতে পরিনত করতে পারেন। ফ্রেমরেট যত বেশি হবে ভিডিও তত ফাষ্ট হবে, ফ্রেমরেট কমালে ভিডিও ধীরগতিতে চলবে।

  • টাইমলাইন ভিউতে এনিমেশন অপশনবাটনে ক্লিক করুন।
  • ডকুমেন্ট সেটিং ক্লিক করুন।
  • ফ্রেম পার সেকেন্ড এর মান পরিবর্তন করুন।

আপনি হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার থাকতে ফটোশপে ভিডিও আনা প্রয়োজন কেন।

ফটোশপে যেভাবে ইমেজের নানারকম ত্রুটি সংশোধন করা যায়, Effect বা ফিল্টার ব্যবহার করা যায় তার সবই ব্যবহার করতে পারেন ভিডিওর ওপর।

কাজশেষে ভিডিও ফাইল তৈরির জন্যঃ

  • মেনু থেকেFile – Export – Render Video কমান্ড দিন
  • আউটপুট ভিডিওর ফরম্যাট সহ অন্যান্য বৈশিষ্ট ঠিক করে দিন।

আপনারা যদি আমার এই আর্টিকেল পড়েন তাহলে অবশ্যই অনেক উপকৃত হবেন। কথা না বাড়িয়ে আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।

 

লিখেছেন

মোঃ রিয়াদ আহম্মেদ

Facebook Comment