ফ্রিল্যান্সিং-এ ক্যারিয়ার! - Graphic School

Blog

ফ্রিল্যান্সিং-এ ক্যারিয়ার!

বর্তমান সময়ে মানুষ ফিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এর ওপরে অনেক বাশি ঝুঁকে পরেছে। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা যে ফ্রিল্যান্সিং বা এই আউটসোর্সিং টা কি?তো চলুন জেনে নেওয়া যাক এই ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং জিনিসটা কি? সাধারণ ভাবে বলতে গেলে ফ্রিল্যান্সিং মানে বোঝা যায় মুক্তপেশা। সহজভাবে বলা যায়, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আওতায় কাজ না করে নিজের খেয়াল খুশি মতো কাজ করাকে আমরা ফ্রিল্যান্সিং বুঝি। কিন্তু বর্তমানে আমরা ফ্রিল্যান্সিং-কে অন্যভাবে বুঝি। তা হলো অনলাইন সম্পর্কিত বিভিন্ন কাজ ইন্টারনেটে সম্পুন্ন করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলি। অন্যদিকে আসছে আউটসোর্সিং, অনলাইনে বিভিন্ন কাজ শিখে অর্থ উপার্জন করাকে আসলে আউটসোর্সিং বলে।বর্তমানে আউটসোর্সিং হচ্ছে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের তৃতীয় ক্ষেত্র। ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের একটা বিশাল বাজার।

আসলে উন্নত দেশে এগুলোর চাহিদা অনেক বেশি। কারণ ওই সব দেশে যদি সামান্য কোনো কাজও করে নেওয়া হয় তারপরেও অনেক মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয়। কারণ দেশগুলোতে মজুরদের দাম অনেক বেশি। সেজন্য তারা অন্য দেশ বা রাষ্ট্রের জনবল নিয়োগ করে কাজ গুলো করে নেয়। এতে করে তাদের অর্থ খরচ কম হয়।

লক্ষ্য নির্ধারণঃ যেকোনো কিছু করার আগে অবশ্যই অনেক কিছু ভেবে নিয়ে কাজ করতে হয়। সেরূপ এখানেও আপনাকে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে কি বিষয় নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করবেন। বহুল কোনো কাজ শিখে আপনি ফ্রিল্যান্সিং-এ ভালো কিছু করতে পারবেন না। সেজন্য এমন একটি বিষয় নির্ধারণ করুন যেটা আপনার জন্য শিখতে অল্প সময় লাগবে এবং আপনি যে বিষয়টা ধরে রাখতে পারবেন।

কোথায় থেকে ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন? অনেকেই আছেন যারা কিছু না জেনেই মার্কেটপ্লেসে নেমে পরেন। তারপরে কোনো রেজাল্ট না পাওয়ার পরে হতাশ হয়ে পরেন এবং কাজ করা বাদ দিয়ে দেন। আসলে যদি কোনো কাজ করতে জানা না থাকলে সেই কাজ থেকে ভালো কোনো কিছু আশা করা যায় না। সে জন্য আমাদের কোনো কিছু করার আগে ভেবে নিতে হবে কোন কাজটি আমার জন্য ঠিক হবে। লক্ষ্য বস্তু ঠিক করে নেওয়ার পরে থিক করতে হবে আপনি কোথায় থেকে কাজটি ভালো ভাবে শিখতে পারবেন।

বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠানই ফ্রিল্যান্সিং এর প্রশিক্ষন দিয়ে আসছে। এর মধ্যে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা কোনো রকমে কাজ শিখিয়ে দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানই আছে তারা অনেক যত্ন সহকারে ১০০% নিশ্চয়তা সহকারে বিভিন্ন ধরণের কাজ-কর্ম শিখাচ্ছে। তার মধ্যে গ্রাফিক্স স্কুল বিডি নামের একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠান অনেক জনপ্রিয়। তারা তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে অনলাইন সম্পর্কিত যাবতিয় কাজের ভিডিও বানিয়ে দেশের আনাচে কানাচে অনেক সুলভ মূল্যে পৌঁছিয়ে দিচ্ছে। তাদের প্রতিষ্ঠানটি ভিজিট করতে এখানে ক্লিক করুন

একজন ফ্রিল্যান্সারারকে অনেক ইংরেজী বিষয়ে পারদর্শী হতে হয়। কারণ আপনি যে মার্কেটপ্লেসে কাজ করবেন সেখানে অধিকাংশ মানুষই অবাঙ্গালী। তাহলে সেখানে অবশ্যই আপনাকে তাদের সাথে ইংরেজীতে যোগাযোগ করতে হবে। সেজন্য আপনার ইংরেজীতে বেশি বেশি কথা বলার অভ্যাস থাকতে হবে। যদি না থাকে তাহলে আপনি ভালো ভাবে ইংরেজীতে কথা বলার জন্য প্রশিক্ষন নিতে হবে।

সময় নির্ধারণঃ সব কাজের ক্ষেত্রেই সময় নির্ধারণ করতে হয়। কিন্তু অনলাইনে যতো কাজ আছে সেগুলোতে অনেক বুঝে শুনে সময় খরচ করতে হবে। আপনার ক্লায়েন্ট আপনাকে কাজের কতোটুকু সময় দিয়েছেন সে সময়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে কাজ করুন। প্রত্যেক ফ্রিল্যান্সারের সময়ানুবর্তিতা মেনে চলা উচিৎ।

দায়িত্বশীলতাঃ সকল মানুষের মধ্যেই দায়িত্ব জ্ঞান থাকা উচিৎ। আর ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আপনাকে আরো দায়িত্ববান হতে হবে। আপনার ক্লায়েন্ট যেভাবে আপনাকে কাজ দিবে ঠিক সে ভাবেই দায়িত্ব সহকারে কাজ করে দিতে হবে।

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য মার্কেটপ্লেসঃ বর্তমানে অনেক ফ্রিল্যান্সারই অনেক মার্কেটপ্লেসে কাজ করে যাচ্ছেন। তার মধ্যে সমচেয়ে বেশি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস গুলো নিচে দেওয়া হলোঃ

আপওয়ার্কঃ(Upwork)

এখানে আপনি আপনার মতো করে বিভিন্ন কাজের বিড করতে পারবেন। বর্তমান যুগের ফ্রিল্যান্সারদের অনেক জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত মার্কেটপ্লেস এটা।

 

ফাইভারঃ(Riverr)

ফাইভার আসলে ছোট ছোট কাজের জন্য অন্যতম একটি মার্কেটপ্লেস। কিন্তু এখানে কাজ করতে চাইলে অনেক দক্ষতার প্রয়োজন।

 

ফ্রিল্যান্সার ডট কমঃ(Freelancer)

বর্তমান সময়ে অনলাইনে কাজ করার জন্য যতো মার্কেটপ্লেস আছে তার মধ্যে সবচেয়ে অন্যতম জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস হলো ফ্রিল্যান্সার ডট কম। এখানে আপনি আপনার পছন্দ মতো যেকোনো ধরণের কাজ করতে পারেন।

 

পিপল পার আওয়ারঃ(People Per Hour)

পিপল পার আওয়ার মূলত ডুয়াল মার্কেটপ্লেস। এখানে আপনি ফাইবারআরের মতো সার্ভিস বিক্রি করতে পারবেন আবার ফ্রিল্যান্সারের মতো জবে বিড করতে পারবেন।

 

৯৯ ডিজাইন’সঃ(99designs)

  এখানে ডিজাইনের কাজগুলো সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। আপনি এখানে লোগো, ব্যবসায়িক কার্ড, ওয়েবসাইট, অ্যাপ্লিকেশন, ইনফোগ্রাফিক, টি-শার্ট, কার্ড, আমন্ত্রণ, পণ্য প্যাকেজ, বই এবং পত্রিকা কভার ইত্যাদি টাইপের অসংখ্য কাজ পাবেন। মূলত এটা অনেক আলোচিত একটা মার্কেটপ্লেস।

 

টিস্প্রিং:(teespring) 

এই মার্কেটপ্লেসটি শুধু মাত্র টি-শার্ট ডিজাইনের জন্য। এখান থেকে আপনি টি-শার্ট ডিজাইন করে অনেক অর্থ আয় করতে পারেন।

 

ডিজাইন ক্রাউডঃ(design crowd)

 এই মার্কেটপ্লেসে যাবতীয় ডিজাইন বিক্রি করতে পারবেন। তাছাড়া ডিজাইন সংক্রান্ত সকল সমস্যার সমাধান এই সাইটটি করে থাকে।

 

টপটল ডট কমঃ (Toptal)

যদি আপনি একজন ভালো একটি ডেভলপার হয়ে থেকেন তাহলে এই মার্কেটপ্লেসটি আপনার জন্য। এখানে শুধু ডেভলপারদের জন্য কাজ দেওয়া থাকে।

 

ড্রিবলঃ(Dribble) 

আপনার যদি গ্রফিক্স ডিজাইনার, মাল্টিমিডিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকে তাহলে এই সাইটটি আপনার জন্য ভালো সহায়ক হতে পারে।

 

ওয়ার্ডপ্রেসঃ(Wordprees)

এই সাইটটি ওয়ার্ডপ্রেসের একটি অফিসিয়াল জব বোর্ড। এখানে আপনি থিম কাস্টমাইজেশন বা ওয়ার্ডপ্রেস সাইট অপ্টিমাইজেশনের কাজ পাবেন।

 

 

যাইহোক মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে সবারই ধারণা এসে গেলো। কিন্তু শুধু মার্কেটপ্লেসের ধারনা থাকলে হবেনা। মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে চাইলে আপনার নিজের একটি একাউন্ট থাকতে হবে। আপনি যে মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে চান ওই মার্কেটপ্লেসের নিয়ম অনুসারে একটি একাউন্ট তৈরী করতে হবে। আর আপনার একাউন্ট অনেকটা চাকচিক্ক হতে হবে। কারণ আপনার একাউন্ট দেখেই ক্লায়েন্ট আপনার থেকে কাজ করে নিবে।

আমাদের দেশে এখনো অনেক ফ্রিল্যান্সার আছেন যারা ঘন্টায় ২০-৩০ ডলার আয় করছেন। আসুন আমরাও চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে অনেক কিছুই সম্ভব। তাই আর বসে না থেকে আপনিও হয়ে উঠুন একজন সফল ফ্রিল্যান্সার।

ফ্রিল্যান্সিং কাজে মরিয়া মনোভাব প্রয়োজন। আমাকে একাজ করতেই হবে, আমি অবশ্যই করব, আমি পারব, এভাবে চেষ্টা না করে সফল হওয়া যায় না। সবসময় এধরনের মরিয়া মনোভাব ভাল ফল দেয় এমন কথা নেই। বরং কোন কোন সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই সঠিক মনোভাব নিয়ে কাজ চালিয়ে যান একদিন আপনি অবশ্যই সফল হবেন ইনশাআল্লাহ্‌।

আমার এই ছোট্ট লেখাটি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 

                                                                                                                        লিখেছেন

                                                                                                               মোঃ রিয়াদ আহম্মেদ

Facebook Comment