মাইক্রোসফট অফিস শেখার গুরুত্ব - Graphic School

Blog

মাইক্রোসফট অফিস শেখার গুরুত্ব

মাইক্রোসফট অফিস-Microsoft Office

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই সুস্থ আছেন। আজকে আপনাদের সাথে অনেক গুরুত্বপুর্ন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। সেই আলোচনার বিষয়টি হচ্ছে সবার পরিচিত মাইক্রোসফট অফিস। এটার নাম জানেনা এমন লোক এই ডিজিটাল যুগে পাওয়া মুশকিল। আশা করি এই লেখার শেষ পর্যন্ত আমার সাথে থাকবেন তাহলে আপনার মনে আর মাইক্রোসফট অফিস নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকবেনা। তাহলে আর সময় নষ্ট না করে চলুন শুরু করি।

মাইক্রোসফট অফিস কি?

বর্তমান ডিজিটাল যুগে মাইক্রোসফট অফিসের ব্যবহার জানা সকলের জন্য অত্যন্ত জরুরী। মাইক্রোসফট অফিস হচ্ছে সমগ্র বিশ্বে ব্যবহৃত বহুল পরিচিত এবং বহুল আলোচিত একটি ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার। এই সফটওয়্যারটি মাইক্রোসফট কর্পোরেশন ১৯৯০ সালে আবিষ্কার করছেন। এখন পর্যন্ত মোট ৯টি ভার্সনে মাইক্রোসফট অফিস বাজারে এসেছে। এদের মধ্যে সর্বশেষ ভার্সনটি ২০১৬ যা ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাজারে আসে। শুরু থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তাদের যতগুলো ভার্সন ছিল সবগুলোই ছিল ফ্রি। কিন্তু ২০১০ এর পর থেকে সফটওয়্যারটি মাইক্রোসফট কর্পোরেশন আর ফ্রি না করে পেইড করে দেয় অর্থাৎ ২০১০, ২০১৩ এবং ২০১৬ ভার্সনের মাইক্রোসফট অফিস সফটওয়্যারটি চালাতে হলে পকেটের টাকা খরচ করে চালাতে হবে। এসব ভার্সনে আগের চাইতে অনেক বেশি এবং উন্নত কাজ করা সম্ভব। ডেস্কটপ এ প্রকাশনা উপযোগী কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য মাইক্রোসফট ওয়ার্ড প্রোগ্রামটি ইতোমধ্যে কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের কাছে কিংবদন্তী প্রোগ্রামে পরিনত হয়েছে।

মাইক্রোসফট অফিস কেন শিখবো?

আপনার যদি একটি কম্পিউটার থাকে আর আপনি যদি মাইক্রোসফট অফিস না শিখেন তাহলে আপনার কম্পিউটার থাকাটাই বৃথা। কেননা আপনি যেকোন কাজে গেলে মাইক্রোসফট অফিস প্রয়োজন হবে। লেখালেখির কাজের জন্য এর চাইতে উন্নত এবং সহজ সফটওয়্যার আর হয়না। আপনি যেকোন চাকুরির জন্য আবেদন করতে গেলে সেখানে দেখবেন কম্পিউটার জানা এবং মাইক্রোসফট অফিস জানা আবশ্যক। কারন অফিসিয়াল প্রত্যেকটি কাজে মাইক্রোসফট অফিস প্রয়োজন হবে। আবার আপনি যদি অনলাইনে আয় করার কথা চিন্তা করেন সেখানেও মাইক্রোসফট অফিস অনেক গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখে। ডাটা এন্ট্রি কাজ করে, প্রজেন্টেশনের কাজ করে আপনি বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে আয় করতে পারবেন। আরো অনেক উদাহরণ আছে যেগুলো বললে অনেক লম্বা হবে। সুতরাং মাইক্রোসফট অফিস শেখার কোন বিকল্প নেই এটা আপনাকে শিখতেই হবে।

তাহলে শিখবো কিভাবে?

শেখার জন্য আমাদের দেশে অনেক স্থায়ী এবং অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আছে যার মাধ্যমে আপনি মাইক্রোসফট অফিস শিখতে পারবেন। স্থায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে তাদের নিয়ম মেনে শিখতে হবে অথবা অনলাইন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই খুব সহজেই ভালভাবে মাইক্রোসফট অফিসের কাজ শিখতে পারবেন। যেমন ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে আপনি খুব সহজেই এই কাজগুলো শিখতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হবেনা।

এটা শেখার জন্য কতটুকু শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন?

ইচ্ছে থাকলে যে কেউ এটা শিখতে পারবেন। তবে নুন্যতম মাধ্যমিক পাশ থাকা ভালো। কারন একজন শিক্ষিত মানুষের পক্ষেই সম্ভব কোন কাজ সঠিক ভাবে শেখা এবং তা ভবিষ্যতে নিজের কাজে প্রয়োগ করা। এরপর অবশ্যই আপনাকে কম্পিউটার চালানো জানতে হবে।

এতে কি কি কাজ শিখতে পারবো?

মাইক্রোসফট অফিসের অনেকগুলো অংশ আছে যেমন- মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল, মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট, মাইক্রোসফট এক্সেস, মাইক্রোসফট আউটলুক, মাইক্রোসফট ওয়াননোট। এগুলোকে একত্রে মাইক্রোসফট অফিস বলে। তবে শেষের ২টা খুব বেশি গুরুত্বপুর্ন না হলেও প্রথম ৪টি অন্ত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন। এগুলো শেখা সকলের জন্য অপরিহার্য। আর প্রত্যেকটি অংশের কাজ আলাদা আলাদা। তাই আমাদের সবগুলো শিখতে হবে।

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড কি?

এটি হচ্ছে মাইক্রোসফট অফিসের প্রধান অংশ। এটি সবচেয়ে বেশি কাজে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন লেখালেখির কাজে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার হয় যেমন চিঠিপত্র, বই লেখা, নোটিশ দেয়া, গুরুত্বপুর্ন তথ্য সংগ্রহ করে রাখা ইত্যাদি। এর মাধ্যমে আপনি আপনার মনের যা ইচ্ছা তাই লিখে সংরক্ষন করে রাখতে পারবেন। এর মাধ্যমে আপনি কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ মেমো, কোন বইয়ের কভার, নিজের জীবনবৃত্তান্ত সহ আরো অনেক কাজ করতে পারবেন।

মাইক্রোসফট এক্সেল কি?

মাইক্রোসফট এক্সেলে মুলত অনেক বেশি তথ্য সারিবদ্ধ ভাবে সাজিয়ে রাখা যায়। যদি আপনার কোন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকে তাহলে মাইক্রোসফট এক্সেলের মাধ্যমে আপনি সহজেই তাদের বিভিন্ন রকম তথ্য সংগ্রহ করে রাখতে পারবেন। আবার ধরুন কোন প্রতিষ্ঠানের বেতন স্কেল তৈরি করবেন তাহলে এর মাধ্যম কিছু সুত্র প্রয়োগ করে সহজেই আপনি কাজ করতে পারবেন। মাইক্রোসফট এক্সেলে বিভিন্ন হিসাব, রেজাল্ট, লাভ-ক্ষতি, বেতন সংক্রান্ত তথ্য রাখা এবং আরো অনেক কাজ করা হয়।

মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট কি?

মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট হচ্ছে অনেক গুরুত্বপুর্ন এবং মজার একটি অংশ। মাইক্রোসফট অফিসের এই অংশে আপনি এক বা একাধিক স্লাইডের মাধ্যমে আকর্ষনিয় বিভিন্ন পেজেন্টেশন তৈরি করতে পারবেন। আগে যে কাজ গুলো হাতে কলমে করতে হতো এখন সেটা মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্টের মাধ্যমে আপনি সহজেই করতে পারবেন। মনে করুন আপনাকে কোন কাজের রিপোর্ট দিতে হবে, মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহার করে আপনি ছবি সহ বিভিন্ন তথ্য দিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন তৈরি করে দেখাতে পারেন। হাতে কলমে কাজ করার চাইতে এটা দিয়ে কাজ করলে সেটা অনেক আকর্ষনিয় ও মানসম্মত হয় এবং যে দেখবে সে সহজেই ব্যাপারটি বুঝতে পারবে। মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্টে অফিস অথবা কলেজের প্রেজেন্টেশন তৈরি করা, স্লাইড আকারে নিজের জীবনবৃতান্ত তৈরি করা, কোন স্থান বা দেশের ডকুমেন্টরি তৈরি করা, এমনকি ভিডিও পর্যন্ত তৈরি করা যায় মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট দিয়ে।

মাইক্রোসফট এক্সেস কি?

মাইক্রোসফট এক্সেস হচ্ছে ডাটাবেজ সম্পর্কিত অংশ। এর মাধ্যমে আপনি কোন একটি ডকুমেন্ট যেখানে অসংখ্য তথ্য আছে তার সাথে কোন সফটওয়্যার সংযুক্ত করে অনেক জটিল কাজ সহজেই করতে পারবেন। ধরুন আপনাকে কোন হাসপাতালের ঔষুধ এর সম্পুর্ন তথ্য হিসাব সহকারে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি সবগুলো ঔষুধের নাম লিখে ডাটাবেজ তৈরি করে রাখতে পারবেন। এরপর যখন প্রয়োজন হবে শুধু সেই ঔষুধের নাম সার্চ করলেই সেটির সব তথ্য দেখতে পাবেন যে কতগুলো ছিল এবং কতগুলো আছে। মুলতো মাইক্রোসফট এক্সেসের মাধ্যমে অনেক জটিল কাজ সহজেই করা যায়।

শিখতে কতদিন সময় লাগবে?

প্রতিদিন ২-৩ ঘন্টা করে সময় দিলে আশা করি ২-৩ মাসের মধ্যে সবকিছু ভালভাবে শিখতে পারবেন। তবে অবশ্যই মনযোগ দিয়ে শেখার মত শিখতে হবে। কারন মাইক্রোসফট অফিস শেখার কোন বিকল্প নেই। জিবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনিয়তা আপনি উপলব্ধি করবেন।

এটা শিখে কোথায় কাজ করবো?

আগেই কয়েকবার বলা হয়েছে আপনার বেশিরভাগ কাজেই এর প্রয়োজন পরবে। অর্থাৎ কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেখানেই যাবেন সেখানেই মাইক্রোসফট অফিস জানা আপনার জন্য আবশ্যক। তাই এ কাজ আপনাকে শিখতেই হবে।

আপনাদের উদ্দেশ্যে আমাদের কিছু কথা

এতকিছু জানার পর হয়ত ভাবছেন মাইক্রোসফট অফিস শেখা যেহেতু আবশ্যক সেহেতু এটা শিখতে হবে যেকোন মুল্যে। কিন্তু শিখবো কোথায়? আমার আশেপাশে তেমন কোন প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে গিয়ে আমি মাইক্রোসফট অফিসের কাজ শিখবো। আবার হয়ত ভাবছেন প্রতিষ্ঠান আছে কিন্তু সেখানে গিয়ে তাদের নিয়ম মেনে কোর্স ফি দিয়ে কাজ শেখার সামর্থ নেই। তাহলে আপনার জন্য অল্প খরচে এডভান্স লেভেলের মাইক্রোসফট অফিস শেখার জন্য আমাদের সাজেশন হচ্ছে এ বিষয়ের উপর ভিডিও টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। এসব ভিডিও টিউটোরিয়ালের মুল্য আপনার নাগালের অনেক কাছে। আপনি ঘরে বসেই নিজের স্বাধীনতা অনুযায়ী শিখতে পারবেন।

এখন প্রশ্ন এই ভিডিও টিউটোরিয়ালের ডিভিডি কোথায় পাবো?

শুধু আপনাদের কথা ভেবেই গ্রাফিক স্কুল নিয়ে এসেছে সল্প খরচে অধিক শেখার উপযুক্ত মাইক্রোসফট অফিস টিউটোরিয়াল ডিভিডি। এখানে আপনি মাইক্রোসফট অফিসে সবকিছু পাবেন। অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা প্রতিটি টিউটোরিয়াল তৈরি করা হয়েছে। তাই আর দেরি না করে এখনি অর্ডার করুন এবং আপনার ঠিকানায় আপনার কপিটি পাঠিয়ে দেয়া হবে। এরপর আপনার কাজ শুধু ভিডিও গুলো দেখা এবং সে অনুযায়ী প্র্যাকটিস করা তাহলেই অল্প কিছুদিনের মধ্যে আপনি একজন মাইক্রোসফট অফিস এক্সপার্ট হয়ে যাবেন।

গ্রাফিক স্কুল এর ভিডিও কোয়ালিটি যাচাই করুন এখানে…

এবং ভিডিওগুলো পছন্দ হলে অবশ্যই অর্ডার করুন এখানে…

 

ব্লগটি লিখেছেনঃ ফরহাদ হোসেন তালুকদার

Facebook Comment