মাইক্রোসফট ওয়ার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত - Graphic School

Blog

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড-Microsoft Word

প্রিয় পাঠক, আজকে আপনাদের উদ্দেশ্যে আলোচনা করতে যাচ্ছি বর্তমানের বহুল পরিচিত এবং বহুল ব্যবহৃত সফটওয়্যার মাইক্রোসফট ওয়ার্ড নিয়ে। এখানে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড নিয়ে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করবো আশা করি আপনারা লেখার শেষ পর্যন্ত থাকবেন। তো চলুন আর দেরি না করে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড সম্পর্কে আলোচনা শুরু করি।

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড কি?

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড হচ্ছে মাইক্রোসট কর্পোরেশন কর্তৃক প্রকাশিত মাইক্রোসফট অফিস নামক একটি সফটওয়্যার এর প্রথম এবং প্রধান অংশ। এটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৯০ সালে। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর প্রথম সংস্করণ ছিল ১৯৯৫ ভার্সন। এরপর এটি ৮ দফায় আপডেট হয়ে সর্বশেষ ২০১৬ ভার্সনে এসে পৌছেছে। ১৯৯৫ থেকে ২০০৭ ভার্সন পর্যন্ত যে ভার্সনগুলো এসেছে সেগুল ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত অর্থাৎ ফ্রি। কিন্তু ২০১০ ভার্সন রিলিজ করার সময় মাইক্রোসফট কর্পোরেশন তারা আর ফ্রি না রেখে সেটাকে প্রিমিয়াম ভার্সনে রিলিজ করে। অর্থাৎ এ ভার্সনটি ব্যবহার করতে হলে অবস্যই টাকা খরচ করে মাইক্রোসফট কর্পোরেশন কর্তৃক অনুমোদন নিয়ে তারপর ব্যবহার করতে হবে। মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে আপনি যেকোন ভাষায় লিখতে পারবেন। তবে আমরা বাঙালীরা বাংলা এবং ইংরেজিতেই বেশি লিখি।

আসুন দেখে নিই মাইক্রোসফট ওয়ার্ডএর সবগুলো ভার্সন দেখতে কেমন ছিল

1995

1997

2000

2003

2007

2010

2013

2016

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর গুরুত্ব

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর গুরুত্ব যে কতটা তা বলে শেষ করা যাবেনা। কেননা প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি পদক্ষেপে আপনি এর সম্মুখীন হবেন। অফিশিয়াল যেকোন কাজেই আপনি যান না কেন সেখানেই মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর প্রয়োজন আপনি লক্ষ করবেন।  অর্থাৎ লেখালেখি সম্পর্কিত যেকোন কাজের জন্য আপনার মাইক্রোসফট ওয়ার্ড শেখা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন।

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর কাজ কি?

সাধারণত সাদা কাগজে আমরা যা লিখে থাকি সেটাই কম্পিউটারে টাইপের মাধ্যমে লেখা বা সংরক্ষন করা মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর প্রধান কাজ। আপনি কোন ছোটখাটো কাজ যেমন চিঠি-পত্র বা নোটিশ লিখবেন সেটা সহজেই এর মাধ্যমে করতে পারবেন। আবার বড় কোন কাজ যেমন বই লেখার মতো কাজও আপনি এর মাধ্যমে করতে পারবেন। এতে আপনার খাতা কলম এর প্রয়োজন হবেনা, ভুল হলে সহজেই তা মুছে দিয়ে ঠিক করে নিতে পারবেন।

এখন আসি মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর কাজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায়।

ছোট থেকে বড় সব ধরনের লেখার কাজ এর মাধ্যমে আপনি করতে পারবেন। লিখে সেটা আপনি নিজে রাখতে পারবেন আবার কাউকে পাঠাতেও পারবেন। এখন ডিজিটাল যুগ তাই হাতে লেখা কোন কিছুই তেমন গুরুত্ব দেয়া হয়না। সবখানেই মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এ টাইপ করা ফাইল চায়। মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে বিভিন্ন কালারে লিখতে পারবেন, লেখার ব্যাকগ্রাউন্ট কালার পরিবর্তন করতে পারবেন, অসংখ্য ফন্টের মাধ্যমে নিজের ইচ্ছে মতো লেখার ফন্ট ব্যবহার করতে পারবেন। বিভিন্ন লেখার মধ্যে প্রয়োজনীয় মন্তব্য, ছবি, লিঙ্ক ব্যবহার করতে পারবেন। শেপ এর মাধ্যমে অনেক কিছু ডিজাইন করতে পারবেন যেমনঃ- বইয়ের কভার, ক্যাশ মেমো ইত্যাদি। কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি করা, এমনকি গাণিতিক যে বিষয়গুলো আছে সেগুলোও এর মাধ্যেমে আপনি লিখতে পারবেন। এর মাধ্যমে আপনি টেবিল তৈরি করে সহজেই তার ভিতরে তথ্য সাজিয়ে রাখতে পারবেন। ছোটখাটো হিসেব টেবিলের মধ্যেই করতে পারবেন অল্প কিছু সুত্র ব্যবহার করে। এখন যেমন প্রতিটি চাকরির জন্য নিজের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে হয় সেটা আপনি খুব সহজেই মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে তৈরি করে অনালাইনের মাধ্যমে অথবা প্রিন্ট করে পাঠাতে পারবেন। লেখার ব্যাকগ্রাউন্ডে জলছাপ দিতে পারবেন এবং এসবকিছু করে সহজেই আপনি সেটা প্রিন্টারের মাধ্যেম প্রিন্ট করে নিয়ে আপনার কাজে লাগাতে পারবেন।

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড কিভাবে শিখবো?

এটি শিখতে হলে আপনাকে কোন প্রতিষ্ঠান গিয়ে মাইক্রোসফট অফিস এ্যাপ্লিকেশন কোর্সটি করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার তাদের নিয়ম মেনে এবং অনেকগুলো অর্থের বিনিময়ে শিখতে হবে। অথবা আপনি ঘরে বসে ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে শিখতে পারবেন। কোন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কোর্স করার চাইতে ঘরে বসে শেখাটা অনেক সহজ এবং সল্প খরচে এটি করতে পারবেন। আপনাকে শুধু ভিডিও টিউটোরিয়াল গুলো দেখতে হবে এবং সে অনুযায়ী প্র্যাক্টিস করতে হবে। আপনি যত বেশি সময় ও মনযোগ দিতে পারবেন তত তারাতারি শিখতে পারবেন।

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড সহ আরো অন্যান্য ফ্রি ভিডিও টিউটোরিয়ালের জন্য ভিজিট করুন এখানে…

ফ্রি ভিডিওগুলো পছন্দ হলে ডিভিডি অর্ডার করতে ভিজিট করুন এখানে…

Facebook Comment