https://graphicschoolbd.com › মাইক্রোসফট-পাওয়ারপয়েন্ট

Blog

মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট দিয়ে কি কি কাজ করা যায়?

আমরা এখন অনুভব করি যে, এনালগ যুগের মিডিয়াগুলোই ডিজিটাল যুগের প্রধান ভাব বা তথ্য প্রকাশের মাধ্যম নয় বরং সময়ের সাথে সাথে এইগুলো ব্যবহারের মাত্রা বদলে গেছে। এক সময়ের যে মিডিয়া ভিন্ন ভিন্নভাবে ব্যবহার হতো এখন সেগুলো একসাথে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া এসব মিডিয়ার সাথে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল যন্ত্রের প্রোগ্রামিং করার ক্ষমতা। মাল্টিমিডিয়ার এ রকম বহুমাত্রিকতা ও প্রোগ্রামিং করার সুবিধা থাকায় এগুলোকে এখন ইন্টার‍্যাক্টিভ মাল্টিমিডিয়া। আমরা সাধারন তিনটি মাধ্যম বা মিডিয়া ব্যবহার করে নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করি। যেমনঃ বর্ণ, চিত্র, ও শব্দ এই মিডিয়াগুলোর বিভিন্ন রূপও রয়েছে। এই তিনটি মিডিয়াকে নিয়ে কখনো আলাদাভাবে আবার কখনো একসাথে করে নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করে থাকি। এসব মাধ্যমের প্রকাশকে আমরা কাগজের প্রকাশনা, রেডিও, টেলিভিশন, ভিডিও, সিনেমা ইত্যাদি নামে চেনা যায়। তবে এর সবগুলো বা একাধিক মাধ্যমকে আমরা আলাদাভাবে মাল্টিমিডিয়া বলে সম্বোধন করা যাবে না। কাগজের প্রকাশনা বা রেডিওকে কেউ মাল্টিমিডিয়া বলতে পারি। তেমনি পাওয়ারপয়েন্টের সাহয্যে আমরা লেখা, ভিডিও, গ্রাফ ইত্যাদির সমন্বয় করে আকর্ষণীয়ভাবে তথ্যাদি উপস্থাপন করা যায়। সভা, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা ইত্যাদিতে কার্যকরভাবে তথ্য উপস্থাপনের জন্য পাওয়ারপয়েন্ট সফটওয়্যারটি খুব সহজেই ও চমৎকারভাবে ব্যবহার করা যায়। চলুন বিস্তারিত ভাবে জেনে নিই কি কি কাজ আমরা পাওয়ারপয়েন্ট দিয়ে করতে পারবো।

পাওয়ারপয়েন্টঃ ফরথট ইঙ্ক কম্পানির হয়ে ডেনিশ অস্টিন ও থমাস রুডকিন মাকিন্টোশ পিসির জন্য প্রথম একটি উপস্থাপনা প্রোগ্রাম তৈরি করেন। ১৯৮৭ সালে ট্রেডমার্কজনিত কারণে এর পুনঃনামকরন করা হয় পাওয়ারপয়েন্ট, নামটির ধারণা দেন রবার্ট গাস্কিন্স একই বছরের আগস্ট মাসে মাইক্রোসফট এটি ১৪ মিলিয়ন ডলারে কিনে নেয় এবং মাইক্রোসফটের প্রথম ব্যবসায়ী ইউনিট যাত্রা শুরু করে এবং সফটওয়্যারটির আরও উন্নতি শাধন করে। ২২ মে ১৯৯০, পাওয়ারপয়েন্ট আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে, একই দিনে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৩.০ লঞ্চ করে। মাইক্রোসফট কোম্পানি পাওয়ারপয়েন্টে যে সমস্ত ফিচার যুক্ত করেছে রা এটিকে কেমল মাত্র একটি প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার হিসেবে নয় বরং শক্তিশালী ইন্টারএকটিভ কম্পজিশন সফটওয়্যারে পরিনত হয়েছে।

চলুন জেনে নিই মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট দিয়ে কি কি কাজ করা যায়>>>

  • অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কোন বিষয়কে দর্শকদের সামনে প্রদর্শন করতে পারবেন।
  • কোন রিপোর্ট বা প্রোজেক্ট স্ট্যাটাস কিংবা এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় পাওয়ারপয়েন্টের সাহায্যে অতি সহজে তৈরি করতে পারবেন।
  • তৈরিকৃত প্রেজেন্টেশন-এ বিভিন্ন এনিমেশন ও ডিজাইন ইফেক্ট দিয়ে মনোমুগ্ধকরভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন।
  • স্লাইড শো প্রদর্শনের সময় ইলেকট্রনিক কলম ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে চিহ্নিত করতে পারবেন।
  • পাওয়ারপয়েন্টে তৈরিকৃত ডকুমেন্টটি প্রিন্ট করে অন্য ডকুমেন্টের মতো ব্যবহার করা যায়।

এটুকুই! আমরা এখানে কার্যকর পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ডিজাইনের মূল ভিত্তিগুলো তুলে ধরেছি। একটি মূলমন্ত্র হিসেবে মনে রাখতে হবে, ভালো ডিজাইন সব সময়ই সূক্ষ্ম ও নিখুঁত থাকে। সেরা ডিজাইন সাধারনত অদৃশ্য থাকে।

সবকিছু ডিজাইন করার পরিবর্তে, এটাকে সাধারণ রাখতে পারেন এবং প্রক্রিয়াটির উপর আলোকপাত করতে পারেন যা আপনার কাজে লাগবে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যবহারের জন্য কিছু লেআউট তৈরি করে রাখতে পারেন। অ্যানিমেশন সেক্ষেত্রেই ব্যবহার করুন যেখানে দরকার। এছাড়া রঙ গুলোকে সাধারণ রাখুন।

যদি আপনার সময়স্বল্পতা থাকে, তাহলে আপনি একটি প্রফেশনাল পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দিয়ে শুরু করতে পারেন এবং নিজের চাহিদামত এটাকে পরিবর্তন করে নিতে পারেন। এখানে বেশ কিছু চমৎকার পাওয়ারপয়েন্ট টেম্পলেট আছে যা আপনি এনভেটো এলিমেণ্টসে খুঁজে দেখতে পারেন, যেখানে আপনি অসংখ্য প্রেজেন্টেশন ডিজাইন, ওয়েব টেমপ্লেটস, এবং গ্রাফিক এসেট মাসিক ফি দিয়ে ডাউনলোড করতে পারবেন।

ডিজাইন করা আসলে খুবই সোজা যদি আপনি এটাকে নিজের জন্য অপ্রয়োজনীয় কঠিন করে না তুলেন। এ থেকে আপনি শিখবেনঃ

  • দৃশ্যমান শ্রেণীক্রম– দৃশ্যমান শ্রেণীক্রমের মূলসূত্র বুঝে ঊঠা এবং কিভাবে আপনি এটাকে প্রেজেন্টেশনে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবেন তা জানা।
  • স্লাইডলেআঊট – দৃশ্যমান অনুক্রমের মূলনীতিগুলো একটি কার্যকর পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইড ডিজাইনে রূপান্তরিত করা।
  • টাইপোগ্রাফি– সঠিক মুদ্রাক্ষর বেছে নেয়া।
  • রঙ– রঙ তত্ত্বের মূলনীতি।
  • বিস্তারিত– অতিরিক্ত কিছু বিষয় যা আপনার প্রেজেন্টেশনকে দুর্দান্ত করে তুলবে।

পরিশেষে, যখন আমরা পাওয়ারপয়েন্টের কোন একটি প্রেজেন্টেশন বা উপস্থাপনার উপর কাজ করবো, তখন দেখবো যে কিভাবে আমরা উপরের সব প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করতে পারি।

আমার লেখাটি খুব বড়ো নয়। কিন্তু এই ছোট্ট লেখাটি আপনাদের অনেক কাজে লাগবে ইনশাআল্লাহ্‌।

সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে এখানেই শেষ করছি। আসসালামুআলাইকুম।

লিখেছেন

মোঃ রিয়াদ আহম্মেদ

Facebook Comment