স্মার্ট ইলাস্ট্রেটর গাইড! - Graphic School

Blog

স্মার্ট ইলাস্ট্রেটর গাইড!

ইলাস্ট্রেটর সম্পর্কে এত বর্ণনা প্রয়োজন নেই, আপনি অবশ্যই এরচেয়ে ভাল বোঝেন। রেখা দিয়ে যা কিছু আঁকা হয় সেগুলি ইলাষ্ট্রেশন। তাইবলে শুধুমাত্র রেখা থাকবে এমন কথাও নেই, অনায়াসে রং থাকতে পারে। ইলাস্ট্রেটরে করা অনেক ডিজাইন দেখে বোঝা কঠিন সেটা রেখা এবং রং দিয়ে করা।

চলুন ইলাস্ট্রেটরকে আরেক জনপ্রিয় এবং বেশি পরিচিত ফটোশপের সাথে তুলনা করে দেখা যাক।

ফটোশপে আপনি ছবি আকতে পারেন। সেইটা রং তুলি দিয়ে বা যেভাবেই হোক। এখানে আপনি চাইলে বিভিন্ন রঙের মিশ্রনে নতুন রং সৃষ্টি করতে পারেন। আবার আপনি চাইলে ক্যামেরা দিয়ে উঠানো বা স্ক্যান করা ছবিও ব্যবহার করতে পারেন। ফলে ফটোশপে ফটোগ্রাফিক একটি বিষয় থাকে। যেটা বহু রঙের বিষয় নিয়ে যে সৌন্দর্য সেটা ইলাস্ট্রেটরে নেই। বরং এখানে রয়েছে নিখুত মাপের বিষয়। সেইসাথে ডিজাইন বিষয়ক সৌন্দর্য।

ফটোশপের সাথে ইলাস্ট্রেটরের মুল পার্থক্য কাজের পদ্ধতিতে। ফটোশপে ছবি তৈরি হয় পিক্সেল বা ডট দিয়ে (বিটম্যাপ)। কোন ইমেজে কতগুলি ডট সেটা নির্দিষ্টভাবে দেওয়া থাকে। খুব বড় করে দেখলে ডটগুলি দেখা যায়। যে কারনে ছোট ইমেজকে বড় করলে মান বা রেজুলেশন নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে ইলাস্ট্রেটরে ছবি তৈরি হয় গানিতিক পদ্ধ্যতিতে (ভেক্টর)। যত বড়ই করুন, সবসময় মান একই থাকবে। ইলাস্ট্রেটরে তৈরি ফাইলের সাইজ ফটোশপের ফাইল সাইজ থেকে অনেক ছোট। এই বিষয়গুলি একসাথে করে কিছু কাজে ইলাস্ট্রেটর অনন্য।

আমাদের প্রশ্ন ছিল এডোবি ইলাস্ট্রেটর দিয়ে কি কাজ করা হয়?

চলুন ইলাস্ট্রেটরের কাজের দিকগুলো দেখে নেওয়া যাক!

ডিজাইন এবং প্রিন্ট : যারা নেমকার্ড থেকে শুরু করে লিফলেট বা পত্রপত্রিকা তৈরি করেন তাদের অন্তত টেক্সট এডিট এর জন্য ইলাস্ট্রেটর প্রয়োজন। কারন ফটোশপে ফটোগ্রাফিক ইমেজ ঠিকভাবে পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু লেখাগুলিকে খুব ভালো মানের পাওয়া যায় না। ফলে ইমেজ ফটোশপে, তারপর তাকে ইলাস্ট্রেটরে এনে টেক্সট এবং ডিজাইন যোগ করা হয় এবং প্রত্যেক ডিজাইনাররাই এটা করে থাকেন। এছাড়া লোগোর মত বিষয় সবসময়ই করা হয় ইলাস্ট্রেটরে। লোগো কখনো বড় কখনো ছোট করে প্রিন্ট করা প্রয়োজন হয়। ইলাস্ট্রেটরে যেকোনো ফাইল বড়-ছোট করলেও সবসময়ই মান একই থাকে।

এনিমেশন এবং ভিডিওঃ যারা এনিমেশন করেন তাদের অনেক সময়ই মুল ডিজাইন তৈরি করে তার ভিত্তিতে কাজ করতে হয়। এটা 2D এনিমেশন তো বটেই, 3D এনিমেশনের ক্ষেত্রেও। 3D ষ্টুডিও ম্যাক্সে বাড়ি তৈরির জন্য অনেকে প্রথমে ইলাস্ট্রেটরে ডিজাইন করে নেন (কেউ কেউ কোরেল ড্র এবং অটোক্যাড ব্যবহার করেন), এরপর তাকে ম্যাক্সে নিয়ে এক্সট্রুড সহ অন্যান্য পদ্ধতিতে 3D বাড়ি তৈরি করেন। 2D এনিমেশন যেহেতু ডিজাইন ভিত্তিক সেহেতু পুরো ডিজাইন ইলাস্ট্রেটরে করে এনিমেশন সফটওয়্যারে সরাসরি ব্যবহার করা যায়। যে কারনে সব এনিমেশন সফটওয়্যারে ইলাস্ট্রেটর ফাইল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। আর আফটার ইফেক্ট এর মত এনিমেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করে যদি চলমান আলোকরেখা দেখাতে চান, সেটাও করা হয় ইলাস্ট্রেটর ডিজাইনকে পাথ হিসেবে ব্যবহার করে তার ওপর ইফেক্ট যোগ করে।

টেকনিক্যাল ডিজাইনঃ বাড়ির নকশা, গাড়ির ডিজাইন থেকে শুরু করে যে কোন যন্ত্রপাতির ডিজাইন করা হয় ইলাস্ট্রেটরের মত সফটওয়্যার ব্যবহার করে। এর কারণ হলো, এতে একেবারে নিখুত মাপ ব্যবহার করা যায়। ফলে সেই ডিজাইন ব্যবহার করা যায় যন্ত্রপাতির পরিচিতিতে। মূল কথা হলো ইন্টেরিয়র বা এক্সটেরিয়র ডিজাইনে সঠিক মাপ, অবস্থান ইত্যাদি বুঝোনোর জন্য ইলাস্ট্রেটরে ডিজাইন করা হয়।

ওয়েব ডিজাইনঃ ফ্লাশভিত্তিক ওয়েব ডিজাইন করতে চান? ইলাস্ট্রেটরে মনের মত ডিজাইন করে নিন। এরপর ফ্লাশ ক্যাটালিষ্টে ডকুমেন্টটি নিয়ে তাকে ইন্টারএকটিভ ওয়েবপেজ বানিয়ে ফেলুন। এনিমেশন-ভিডিও যোগ করুন। এক্ষত্রে আপনাকে এক লাইন কোডও লেখা প্রয়োজন হবে না।

প্রশ্ন থাকতে পারে এসব কাজের জন্য ইলাস্ট্রেটর ব্যবহার করতেই হবে?

আপনি ফটোশপের বদলে অন্য সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। ইলাস্ট্রেটরের বদলেও অন্য সফটওয়্যারও ব্যবহার করতে পারেন। অন্তত কোরেল ড্র অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে কাজ করার ক্ষেত্রে আপনাকে ইলাস্ট্রেটর অথবা কোরেল ড্র যে কোন একটি ব্যবহার করতে হবে। একই কাজের জন্য দুটি সফটওয়্যার প্রয়োজন নেই।

ইমেজ এডিটিং এর জন্য যেহেতু ফটোশপ অতুলনীয় সেকারনে একই কোম্পানীর তৈরি, সহজে একসাথে ব্যবহারযোগ্য ইলাস্ট্রেটর কিছুটা প্রাধান্য পেতেই পারে।(এটা বড় কথা না)

এখন জেনে নিই ইলাস্ট্রেটর এর সাধারন কাজঃ

এডোবি ইলাস্ট্রেটর তুলনামুলক পেশাদারদের কাজের সফটওয়্যার। শখ করে কয়েকদিন শেখার উপযোগি সফটওয়্যার না এটা। যদিও শখের বশে অনেকে অনেক কঠিন কাজ করেন, তাদের কথা বলছি না। একথার অর্থ হচ্ছে আপনাকে শিখতে হবে যথেষ্ট মনোযোগ দিয়ে, বেশ সময় ব্যয় করতে হবে। ফল হিসেবে যে যোগ্যতা লাভ করবেন তাতে অনায়াসে পেশাদার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। প্রথম টিউটোরিয়াল হিসেবে এখানে ইলাস্ট্রেটর পরিচিতি, কাজের নিয়ম এবং বেসিক সেপ ব্যবহার দেখানো হচ্ছে।

ওয়েলকাম স্ক্রিন

এডোবির অন্যান্য সফটওয়্যারের মত ইলাস্ট্রেটর চালু করলে একটি ওয়েলকাম স্ক্রিন পাওয়া যাবে। এখান থেকে আপনি কোন নতুন ডকুমেন্ট তৈরি করবেন সেটা সিলেক্ট করতে পারেন, অথবা আগের করা ডকুমেন্ট ওপেন করতে পারেন।

যদি ওয়েলকাম স্ক্রিন স্ক্রীন ব্যবহার না করতে চান তাহলে এর নিচের অংশে Do not show লেখা অংশে টিক চিহ্ন দিন।

পুনরায় একে পেতে পারেন Help – Welcome Screen কমান্ড ব্যবহার করে।

ইলাস্ট্রেটর চালু করলে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের মত নিজে থেকে নতুন ডকুমেন্ট তৈরি হবে না। আপনি ইলাস্ট্রেটর শুরু করে নতুন একটি ডকুমেন্ট তৈরি করবেন। কাজটি কি সেটা আগে ঠিক করুন। হয়ত ফটোশপে একটি বিজনেস কার্ড ডিজাইন করেছেন সেটার জন্য টেক্সট লিখবেন, কিংবা খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন তৈরি করবেন, অথবা ওয়েব পেজে ব্যবহারের জন্য হেডার তৈরি করবেন। আপনি শুরুতেই ঠিক করে নেবেন কাজটি কোথায় ব্যবহার করে, তার মাপ কত।

  • ইলাস্ট্রেটর শুরু করে মেনু থেকেFile – New কমান্ড দিন (কিবোর্ডে Ctrl-N।
    নতুন ডকুমেন্টের ডায়ালগ বক্স পাবেন
  • New document profile থেকে ডকুমেন্টের ধরন সিলেক্ট করুন।
    কাজ অনুযায়ী আপনার পছন্দ হতে পারেWeb, Print, Mobile Device, Video and Film, Basic CMYK, Basic RGB, Catalyst ইত্যাদি। ওয়েব, ভিডিও, ক্যাটালিষ্ট ইত্যাদির জন্য নিজে থেকে RGB কালার মোড ব্যবহৃত হবে, এর জন্য ব্যবহৃত হবে CMYK
  • নির্দিষ্ট ভাবে ডকুমেন্টের মাপ ঠিক করে নিতে পারেনWidth-Height পরিবর্তন করে।
  • Advance ক্লিক করে প্রয়োজনে আরো নির্দিষ্ট পরিবর্তন করে নিতে পারেন।
  • OK বাটনে ক্লিক করলে বৈশিষ্ট অনুযায়ী ফাকা ডকুমেন্ট পাওয়া যাবে।

ইলাস্ট্রেটর ইন্টারফেস

আপনি যদি ফটোশপে কাজ করে থাকেন তাহলে তারসাথে ইলাস্ট্রেটরের ইন্টারফেসের মিল পাবেন। ফটোশপের মতই বামদিকে টুলবক্স, ডানদিকে বিভিন্ন ধরনের প্যানেল রয়েছে ইলাস্ট্রেটরে। কাজের ধরন অনুযায়ী আপনি বিভিন্নভাবে সাজিয়ে নিতে পারেন স্ক্রীনকে। মূলত একে বলা হয় ওয়ার্কস্পেস। নিজে থেকে সেখানে Essentials নামের ওয়ার্কস্পেস পাবেন। এছাড়া ফটোশপ ও ইনডিজাইনের মত ইত্যাদি ওয়ার্কস্পেস ব্যবহার করা যাবে। যদি এই দুটি সফটওয়্যারের কোনটি বেশি ব্যবহার করেন অর্থাৎ আপনি যেই সফটওয়্যারটা ব্যবহার করতে বেশি সাচ্ছন্দ বোধ তাহলে সেটা বেছে নিতে পারেন।

এর বাইরে কাজ অনুযায়ী Painting, Printing and Proofing, Typography, Web ইত্যাদিও আপনার পছন্দ হতে পারে। কিংবা একেবারে নিজের পছন্দমত স্ক্রিন সাজিয়ে তাকে নিজস্ব ওয়ার্কস্পেস হিসেবে সেভ করে নিতে পারেন।

টিউটোরিয়ালের সুবিধার জন্য এখানে ডিফল্ট ওয়ার্কস্পেস ব্যবহার করা হচ্ছে।

ডকুমেন্ট এবং আর্টবোর্ড

সাধারনভাবে আপনি যখন ইলাস্ট্রেটর ডকুমেন্ট তৈরি করবেন তাকে একপৃষ্ঠার ডকুমেন্ট হিসেবে কল্পনা করতে পারেন। ইলাস্ট্রেটরে একাধিক পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট ব্যবহার করা যায় না। তকে একটি পৃষ্ঠাকে আর্টবোর্ড ধরে নিয়ে একাধিক আর্টবোড ব্যবহার করতে পারেন।

নতুন আর্টবোর্ড তৈরির জন্য আর্টবোর্ড প্যানেলে New Artboard ক্লিক করুন।

ইলাস্ট্রেটরে মাপের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন। তাহলে চলুন মাপের বিষয় দিয়েই শুরু করা যাক।

গ্রিড, গাইড, রুলার ইত্যাদি

ভেক্টর ডিজাইনর এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট নিখুত মাপ। আপনি নির্দিষ্ট মাপে কিছু আকতে পারেন, একটি অবজেক্টের সাথে আরেকটিকে নির্দিষ্ট মাপে সংযুক্ত করতে পারেন। এজন্য বেশ কিছু ব্যবস্থা রয়েছে ইলাস্ট্রেটরে।

রুলারঃ ডিজাইন বোর্ডের ওপরের দিকে এবং বামদিকে এটা দেখা যায়। মেনু থেকে View – Rulers – Show Rulers কমান্ড ব্যবহার করে অথবা কিবোর্ডে Ctrl + R শর্টকাট কি ব্যবহার করে একে অন-অফ করা যাবে।

রুলারের একক ইঞ্চি, সেন্টিমিটার, পাইকা, পিক্সেল ইত্যাদি হতে পারে। আপনি যে মাপে কাজ করছেন তারসাথে মিল রেখে এটা ঠিক করে নেবেন। ইউনিট পরিবর্তনের জন্য রুলারের ওপর রাইট ক্লিক করুন এবং পছন্দমত ইউনিট সিলেক্ট করুন।

আপনার ডকুমেন্টে কোন ডিজাইন থাকলে এর ওপরের বামদিকের কোনে রুলারের ০,০ পয়েন্ট (অরিজিন) পাবেন। আগের ভার্শনের ইলাস্ট্রেটর ব্যবহার করলে বিষয়টি লক্ষ্য করুন, ভার্শন সিএস-৫ এর আগের ভার্শনে ০,০ শুরু হত বামদিকের নিচের অংশ থেকে।

একাধিক আর্টবোর্ড থাকলে প্রতিটির জন্য ভিন্ন ভিন্ন রুলার সেটিং কাজ করবে।

গাইডঃ গাইড ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন অবজেক্টকে তারসাথে মানানসই করে সহজে আর্টবোর্ডে রাখার জন্য। রুলারের ওপর ক্লিক করে মাউস ড্রাগ করে আর্টবোর্ডের ওপর আনুন। এতে নতুন একটি রেখা তৈরি হবে। তারপরে অবজেক্টগুলিকে সহজে তারসাথে মিল করে সাজানো যাবে।

গ্রীডঃ এখানে আপনি একটি গ্রীডকে গ্রাফপেপারের সাথে তুলনা করতে পারেন। গ্রীড ভিউতে পুরো ডকুমেন্টে ওপর ছককাটা দাগ দেখা যাবে। এরসাথে মিল করে সহজে অবজেক্টকে সাজানো যাবে।

গ্রীড দেখার জন্য মেনু থেকে View – Show Grid কমান্ড দিন।

স্মার্ট গাইডঃ ইলাস্ট্রেটর সিএস-৫ ভার্শনে স্মার্ট গাইড নামে একটি বিশেষ ফিচার যোগ করা হয়েছে। মাউস পয়েন্টারকে কোন অবজেক্টের ওপর আনলে অন্যান্য অবজেক্টের সাথে তুলনামুলক গাইড দেখা যায়। ফলে একটি অবজেক্ট আরেকটি অবজেক্টের সাথে মিল আছে কিনা, কোথায় মিল আছে জানা যায়।

পারস্পেকটিভ গাইডঃ কোন বস্তু কাছে থাকলে বড় দেখায়, দূরে থাকলে ছোট দেখায়। এ ধরনের 3D ডিজাইন তৈরির জন্য পারস্পেকটিভ গাইড বলে একটি বিষয় রয়েছে। এই ব্যবস্থায় কাছের অবজেক্টকে দূরে সরালে সেটা নিজেই ছোট হয়। পারস্পেকটিভ গাইড এবং ডিজাইন একটি টিউটোরিয়ালে উল্লেখ করা হবে।

বেসিক সেপ ব্যবহার

ইলাস্ট্রেটর এর ইন্টারফেস সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা পাওয়া গেল। এবার কিছু কাজ করে দেখা যাক।

ইলাস্ট্রেটরের মুলকাজ ডিজাইন। আপনি ডিজাইন এরজন্য সরলরেখা, বেজিয়ে কার্ভ, ফ্রিহ্যান্ড ডিজাইন, ব্রাশ ইত্যাদি বিভিন্ন টুল ব্যবহার করবেন। সেইসাথে আয়তক্ষেত্র (রেকট্যাংগল), বৃত্ত (সার্কেল) সহ বিভিন্ন ধরনের সেপ ব্যবহারে করেও ডিজাইন করবেন।

ওপেন এবং ক্লোজ লাইন

লাইন ব্যবহার করে আঁকার সময় সেপ দুধরনের হতে পারে। একটি সরলরেখা এবং একটি বৃত্তকে কল্পনা করুন। বৃত্তের জন্য একটি জায়গা রয়েছে যাকে ঘিরে রয়েছে বাঁকানো একটি রেখা। অন্যদিকে সরলরেখার কোন জায়গা নেই। প্রথমটির মাঝখানে কোন রং ব্যবহার করতে পারেন, সরলরেখায় শুধুমাত্র রেখার ওপর রং ব্যবহার করতে পারেন। এখানে কোন জায়গা নির্দেশ করে না বলে রং ব্যবহার করতে পারেন না। আপনার ডিজাইন অবজেক্ট এর দুটি বৈশিষ্ট, একটি লাইন, অপরটি ফিল। এতে আপনার ডিজাইন দুটি ভিন্ন ভিন্ন রং-এর হতে পারে।

কাজেই সাধারন নিয়ম, রং (ফিল) ব্যবহারের জন্য ক্লোজ লাইন প্রয়োজন (ব্যতিক্রম আছে)।

আয়তক্ষেত্র তৈরীঃ

  • টুলবক্স থেকেRectangle টুল সিলেক্ট করুন।
  • আর্টবোর্ডে ড্রাগ করে একটি আয়তক্ষেত্র আকুন।
    আপনি যেখান থেকে শুরু করবেন এবং যে পর্যন্ত ড্রাগ করবেন সেই মাপের আয়তক্ষেত্র পাবেন। আকার সময় স্পেসবার চেপে ডিজাইনকে ইচ্ছেমত সরানো যাবে।
  • ডিজাইন মোড থেকে বাইরে যাবার জন্য সিলেকশন টুলে ক্লিক করুন।
    আপনার আকা আয়তক্ষেত্রে লাইনের বৈশিষ্ট কি হবে, অর্থাত লাইনের পুরুত্ব, রং ইত্যাদি নির্ভর করবে আপনি লাইন এবং ফিলের জন্য কি সিলেক্ট করেছেন তার ওপর। ডিজাইন করার আগেই এগুলি ঠিক করে নিতে পারেন অথবা ডিজাইন করার পর সেটা সিলেক্ট করে পরিবর্তন করতে পারেন।

ডিজাইন করা আয়তক্ষেত্রের পরিবর্তন করে দেখা যাক।

  • সিলেকশন টুল সিলেক্ট করুন।
  • আয়তক্ষেত্রটি ক্লিক করে সিলেক্ট করুন।
  • প্রোপার্টি বারে (মেনুবারের নিচে) ফিল অংশ থেকে যে কোন রং সিলেক্ট করুন। আয়তক্ষেত্রটি সেই রঙে পরিবর্তিত হবে।
  • লাইন কালার অংশ থেকে লাইনের জন্য রং সিলেক্ট করুন। লাইনটি সেই রঙে পরিবর্তিত হবে
  • ষ্ট্রোক লেখা অংশ থেকে লাইনের পুরুত্ব সিলেক্ট করুন।
  • সাধারন এই বৈশিষ্ট ছাড়াও লাইনের ধরন, ষ্টাইল, অপাসিটি ইত্যাদি পরিবর্তন করে দেখতে পারেন।

এতক্ষণে আপনি নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন ফটোশপ ডিজাইন এবং ইলাস্ট্রেটর ডিজাইন এর পার্থক্য কোথায়। ইলাস্ট্রেটরে ডিজাইন করার পর তাকে যে কোন ধরনের পরিবর্তন করা যায়।

রেকট্যাংগল টুলের বাকি বৈশিষ্টগুলি দেখে নেয়া যাক।

  • রেকট্যাংগল আকার সময়Alt চেপে ধরুন। ড্রাগ করা পয়েন্টকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে রেকট্যাংল তৈরী হবে।
  • Shift চেপে ড্রাগ করুন, বর্গক্ষেত্র তৈরী হবে।
  • Shift + Alt চেপে ধরে আকুন, কেন্দ্র থেকে বর্গক্ষেত্র তৈরী হবে।
  • ড্রাগ না করে আর্টবোর্ডে ক্লিক করুন। মাপ টাইপ করে ডিজাইন করার সুযোগ পাবেন।

ডিজাইন এর পর পরিবর্তন

আপনি একবারে নিখুত মাপের আয়তক্ষেত্র বা বর্গক্ষেত্র তৈরী করবেন এমন কথা নেই। তৈরী পর বড়ছোট করা প্রয়োজন হতে পারে। কিংবা ঘুরোনো প্রয়োজন হতে পারে।

  • সিলেকশন টুল সিলেক্ট করুন।
  • ক্লিক করে রেকট্যাংগল সিলেক্ট করুন। চারটি কোনে একং চার বাহুর মাঝখানে হ্যান্ডলার পাওয়া যাবে। এগুলি ব্যবহার করে বড়-ছোট করার কাজ করা যাবে।
  • মাউস পয়েন্টারকে হ্যান্ডলারের বাইরের দিকে আনুন। বাকানো চিহ্ন পাওয়া যাবে। এই অবস্থায় ড্রাগ করে অবজেক্টকে ঘুরানো যাবে।

পাঠক আমার এই ব্লগটি শুধু পড়লে কাজে আসবেনা। কাজে আসবে তখন যখন আপনি এই ব্লগটির দেখানো পথ অনুসরণ করে কাজ করেন। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আপনাদের জন্য আরও ভালো কিছু নিয়ে লেখার চেষ্টা করছি। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম!

 

লিখেছেন

মোঃ রিয়াদ আহম্মেদ

 

Facebook Comment