Blog নিয়ে মজার কিছু কথা, শিখতে হলে জানতে হবে! - Graphic School

Blog

Blog নিয়ে মজার কিছু কথা, শিখতে হলে জানতে হবে!

আমরাতো সবাই ব্লগিং করি তো চলুন জেনে নেওয়া যাক ব্লগ আসলে কি?

BLOG: ব্লগ শব্দটি ইংরেজ Blog এর বাংলা প্রতিশব্দ, যা এক ধরণের অনলাইন জার্নাল । ইংরেজি Blog শব্দটি আবার Weblog এর সংক্ষিপ্ত রূপ। যিনি ব্লগে পোস্ট করেন তাকে ব্লগার বলার হয়।১৯৯৭ এর ১৭ ডিসেম্বর, “জর্ন বার্গার” নামক এক ব্যক্তি সর্বপ্রথম ‘weblog’ শব্দটির উদ্ভাবন করেন।ব্লগিং নিয়ে না জানা লোকের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম (আমার মনে হয়)। তবে যারা জানে না বা ভুল জানে তাদের জন্য আমার এই লেখা। উন্নত দেশগুলোতে ব্লগিং খুব জনপ্রিয় একটা পেশা। প্রায় সব শ্রেণীর পেশার মানুষ উন্নত দেশগুলোতে ব্লগিং এর সাথে জড়িত।’Jerry Pournelle’ এবং ‘Dave Winer’s’- এর পার্সোনাল ব্লগ ছিলো অন্যতম।

Bruce Abalson নামক এক ব্যক্তি ১৯৯৮ সালের অক্টোবরে ‘ওপেন ডায়েরি’ নামক একটি ব্লগ খোলেন এবং রাতারাতি তার ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।তারপরে  সেখানে হাজার হাজার ব্লগার তার ব্লগের সাথে যুক্ত হন এবং এটিই সর্বপ্রথম ব্লগ কমিউনিটির স্বীকৃতি দেওয়া হয় যেখানে, অন্যান্য ব্লগারদের লেখায় মন্তব্য করার সুযোগ দেয়া হয়।

সাধারন ভাষায় নিজের প্রাত্যহিক জীবনের কিছু ঘটনা অথবা কোন একটি নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে লিখা বা কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ধারাবাহিক ভাবে লিখার মাধ্যমে ইন্টারনেটে সবার সাথে শেয়ার করা কে বলা হয় ব্লগিং। আসলে বর্তমান সময়ে ব্লগ ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতার মাধ্যম হয়ে উঠেছে।সেই সুবাদে ব্লগাররা বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে নিয়মিত তাদের প্লাটফর্মে  ব্লগ লিখতে থাকেন।ব্লগ বা ব্লগিং যেকোন বিষয়ের ওপর হতে পারে। ব্লগিং মানেই স্বাধীনতা। মূলত একজন ব্লগার তাঁর লেখনীতে পছন্দের যেকোন বিষয়ে নিজের অব্যক্ত কথা তুলে ধরে এবং সেই বিষয়ে নিজস্ব মতামতের মাধ্যমে আলোচনা করে।

আর যিনি ব্লগ লিখেন তাকে ব্লগার(Bloger)বলা হয়।ব্লগাররা নিয়মিত তাদের ওয়েবসাইটে কনটেন্ট প্রকাশ করে থাকেন আর ব্যবহারকারীরা সেখানে তাদের মন্তব্য করতে পারেন। ব্লগিং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে করা যায় যেমন মনে করেন আপনি কম্পিউটার সম্বন্ধে বা নতুন টেকনোলোজি সম্বন্ধে ভাল জানেন এবং এই জানাটা আপনি ইন্টারনেটে বিভিন্ন ব্লগে বা ওয়েব সাইটে লেখালেখির মাধ্যমে প্রকাশ করলেন তখন আপনি হবেন একজন ব্লগার বা টেকব্লগার এইভাবে আপনি অন্য যে কোন বিষয় সম্বন্ধে লিখলেও আপনি হবেন সেই বিষয়ের ব্লগার।

ব্লগ নিয়ে অনেক মতবিরোধ আছে। কেউ কেউ মনে করেন ব্লগ নাস্তিকতার উদাহরণ।কিন্তু এটা সম্পূর্ণই ভূল। ভূল।এখন ও ব্লগার শব্দটা শুনতে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করে বা ব্লগার বললেই অনেকে খারাপ চোখে দেখে কারণ তারা জানে না ব্লগার কি জিনিস তারা শুধু বোঝে ব্লগার হল নাস্তিক ইসলাম বিরুদ্ধী কিছু লোক এই ধরনের, কারণ কিছু ব্লগার ইসলাম বিরুদ্ধী লেখালেখি করেছে এবং কিছু ইসলাম বিরুদ্ধী ব্লগ তৈরী করেছে যাদেরকে সাধারণ মানুষ ঘৃণা করছে তার সাথে সাথে আমরাও তাদের ঘৃণা করি কারণ ধর্ম নিয়ে এমন কটুক্তি বাক্য লেখালেখি কেউ সহ্য করবেনা, ব্লগিং বিষয়টা জনসাধারণের কাছে অনেক বেশীই নেতিবাচক। এর কারণ হিসেবে সোজা কথায় বলতে হবে, বাংলাদেশে প্রথম ব্লগিং পরিচিতি পায় কিছু ধর্ম বিদ্বেষী নাস্তিক ব্লগারদের হাত ধরে। আর ঠিক তখন থেকেই দেশে ব্লগিং শব্দটাকে মানুষ খারাপ দৃষ্টিতে দেখে থাকে। আজ পর্যন্ত এই দৃষ্টিকোণ বদলায়নি।

যাই হোক, এখন কথা আসলো আমরা কেনো ব্লগিং কেনো করবো?আনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন যে ব্লগিং করে কি লাভ? আসল কথায় আসি। ব্লগিং করলে লাভ তো আছেই কিন্তু এখানে আপনাকে আগে ঠিক করতে হবে আপনি বাংলায় ব্লগিং করবেন না ইংরেজীতে। যদি আপনি ভাংলায় ব্লগিং করেন তাহলে লাভের অংশটা কম পাবেন।কিন্তু আপনি যদি ইংরেজীতে ভালো দক্ষ হন তাহলে আপনি অনেক সুনামের সাথে অনেক আয়ও করতে পারেন এবং অনলাইন ভিত্তিক সাংবাদিকতায় চান্স পেয়ে যেতে পারেন। এছাড়া এটা ভার্চুয়াল জগতে আপনাকে ফেমাস করে তুলতে পারে। এছাড়া অনেকেই অনলাইন এডস কোম্পানির (গুগল এ্যাডসেন্স, ইনফোলিঙ্কস, ক্লিকসোর) ব্লগ পাবলিশের মাধ্যমে প্রচুর টাকা আয় করছেন। কিন্তু ইংরেজীতে ব্লগিং করতে গেলে অনেক অভিজ্ঞতার দরকার। কারণ ব্লগ এমন একটা জিনিস যেটা পরলে পরবর্তীতে অন্য কোনো জিনিসের প্রতি বাড়বে। সে জন্য ইংরেজীতে ব্লগিং করতে গেলে ইংরেজীর ওপর একটু ভালোভাবে নজর দিতে হবে।

এখন আসি কিভাবে ব্লগিং করবেন ?????

ব্লগিং করতে প্রথমেই আপনাকে নির্দিষ্ট ব্লগ সাইটে একটি ব্লগ এ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এ্যাকাউন্ট খোলার জন্য একটি মেইল আইডি প্রয়োজন। তারপর আপনাকে একটি নির্দিষ্ট নামে (আপনার নাম) এ্যাকাউন্ট তৈরী করুন। মনে রাখতে হবে ব্লগের ক্ষেত্রে ওই নামেই সবাই আপনাকে চিনবে। পরবর্তীতে ওই নামটি পরিবর্তন করতে পারবেন না সেটা মাথায় রেখেই একাউন্ট তৈরী করবেন। আর জেনে রাখা ভালো, যে নামটি আপনি ব্যবহার করছেন সেটি যেন ইউনিক হয়। কারণ অনলাইন জগতে সাধাসিধে নাম খুব একটা জনপ্রিয় না। এছাড়াও ব্লগ এ্যাকাউন্টে লগইন করার জন্য প্রয়েজন হবে একটা Username এবং Password এর। সেক্ষেত্রে Username এমন একটি হতে যে নামটি অন্য কেউ ব্যবহার করছে না। আর Password এর কথা যদি বলি তাহলে Password টা এমন হতে হবে যেনো আপনি Password টা মনে রাখতে পারেন। আর ভুলেও যেনো Password কারো সাথে শেয়ার করেন না। একাউন্ট সফলভাবে তৈরী হয়ার পরে ওয়েবসাইটে উক্ত Username এবং Password দিয়ে লগইন করতে হবে। সফলভাবে লগইন হওয়ার পরেই আপনি মূল পেজে ঢুকতে পারবেন। ব্লগ সাইটে ঢোকার পরে এখানে নিজের মতো করে ব্লগ লিখতে পারবেন। বর্তমানে আমার সোনার বাংলা ওয়েবসাইটটি নতুন হলেও অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

ব্লগ সাইটে ব্লগারদের অনেক নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে হয়। কোনো ব্লগার যদি এই নিয়ম ভঙ্গ করে তাহলে ব্লগ কমিউনিটি উক্ত ব্লগারের প্রতি আইগত ব্যবস্থা নিতে পারে। তাই এমন ভাবে ব্লগ লিখতে হবে যেনো সব কিছু নিয়ম মাফিক হয়।

ব্লগিং নিয়ে না জানা লোকের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম। আমি মনে করি, ব্লগের সব চেয়ে বড় অবদান, নতুন নতুন লেখক সৃষ্টি করা। আপনি যদি এটা মাথায় নিয়ে কাজ করেন তাহলে আপনিও উন্নতির চরম শীর্ষে পৌঁছাতে পারেন।

আসলে ব্লগিং একটি জনপ্রিয় নেশা। কিন্তু এটা কোনো খারাপ নেশা না। যদি কেউ এটাকে(ব্লগিং) খারাপ নেশা হিসেবে সম্বোধন করেন তাহলে আমি বলবো আপনি ব্লগিং সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এককথায় আপনি পুরোপুরি অজ্ঞ। সেজন্য ব্লগ সম্পর্কে আপনি ভালোভাবে জ্ঞানার্জন করে এর ভালো-মন্দ দিক বিচার করবেন।

যারা আসলে ব্লগিং করতে বেশি আগ্রহী আমার এই ছোট্ট লেখাটা মূলত তাদের জন্য বেশি কার্যকরী।

ধন্যবাদ সবাইকে…..

লিখেছেনঃ রিয়াদ আহম্মেদ

Facebook Comment